
মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান (রংপুর)
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সীমান্তপথে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম। বর্তমানে কুড়িগ্রাম সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২২ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রামকেও বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে জেলার নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাতের বেলায় বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুড়িগ্রাম সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার সকালে সদর উপজেলার যাত্রাপুর, চর নারায়ণপুর ও ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাঁটাতারের বেড়ার পাশজুড়ে বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন। সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর রাখা হচ্ছে কঠোর নজরদারি। সন্দেহভাজন কাউকে দেখা গেলে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি অনেক বেড়েছে এবং রাতেও নিয়মিত টহল দেখা যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক, পিএসসি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। যেসব এলাকায় অতীতে অনুপ্রবেশ কিংবা চোরাচালানের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেসব পয়েন্টে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্তের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে গোয়েন্দা কার্যক্রমও আগের চেয়ে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুড়িগ্রাম সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার কিংবা মাদক চোরাচালান সংঘটিত না হতে পারে, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সক্রিয় উপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে সীমান্তপথে অপরাধমূলক তৎপরতা কমাতে এই কঠোর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা। এছাড়া সীমান্তে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকায় কঠোর টহল ও সমন্বিত নজরদারির ফলে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এদিকে সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও টহল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আরোও পড়ুন - রাজশাহী সীমান্তে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও সিরাপ জব্দ