
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী মহানগরীতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। সর্বশেষ আরএমপি অভিযান পরিচালনা করে নগরীর পৃথক তিনটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে মাদকের বিস্তার রোধ এবং যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
আরএমপি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ মে ২০২৬) দিবাগত রাতে নগরীর রাজপাড়া, শাহমখদুম ও পবা থানা এলাকায় পৃথকভাবে এই আরএমপি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারিতে রেখে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন এলাকায় গোপনে মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন। অভিযানের সময় তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে দেহ তল্লাশি চালিয়ে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব ট্যাবলেট তরুণদের মধ্যে ভয়াবহ আসক্তি তৈরি করছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজপাড়া থানা পুলিশ রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাকির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. কামরুল হাসান পিয়াস (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে। তিনি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাহিগাছা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মো. মুক্তার হোসেন। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অন্যদিকে পবা থানা পুলিশ রাত সাড়ে ৮টার দিকে নতুনপাড়া গাঙ্গপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আসাদুজ্জামান (২৪) নামের আরেক ব্যক্তিকে আটক করে। তার পিতা মৃত আখতারুল ইসলাম এবং বর্তমানে তিনি চন্দ্রিমা থানার ছোটবনগ্রাম এলাকায় বসবাস করতেন।
একই রাতে পবা থানার তেঘর এলাকায় আরও একটি আরএমপি অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে ওই এলাকা থেকে মো. সিফাত (২০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি বাগসারা নওদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মো. আরিফ। পুলিশের ভাষ্যমতে, আটক তিনজনের কাছ থেকেই আলাদাভাবে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আরএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, রাজশাহীতে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যাপেন্টাডল মূলত ব্যথানাশক ওষুধ হলেও এটি অপব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ভয়াবহ নেশায় পরিণত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ট্যাবলেটের অবৈধ ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, মাদক ব্যবসায়ীরা সহজে বহন ও গোপনে বিক্রির সুবিধার কারণে ট্যাপেন্টাডলকে বেছে নিচ্ছে। ফলে নিয়মিত আরএমপি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সচেতন মহল মনে করছে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজকেও এ বিষয়ে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী এই অভিযানকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিত আরএমপি অভিযান পরিচালনা করা হলে নগরীতে মাদক বিস্তার অনেকাংশে কমে আসবে। পুলিশও বলছে, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে যাবে।
আরোও পড়ুন - রাজশাহী-ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিযান: অপহরণকারী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার