
বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার সদর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর নবজাতক হত্যা ঘটনায় মা ও তার বর্তমান স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। ঘটনার খবর শনিবার সকালে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়। পরে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা নিপা ও তার বর্তমান স্বামী দুলালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বগুড়া সদরের নারুলী এলাকার শুকুর আলীর সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে নিপার বিয়ে হয়েছিল। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর চলতি বছরের রমজান মাসে নিপা শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামের নুর আলমের ছেলে দুলালকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার রাতে নিপা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরে শিশুটি আগের স্বামীর সন্তান হওয়ায় লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপের কারণে ভয়াবহ এই নবজাতক হত্যা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, নবজাতক শিশুটির গলায় ধারালো ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে মরদেহ গোপনে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। শনিবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন পুকুরের পাশে সন্দেহজনক আলামত দেখতে পেয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। পরে এলাকাবাসীর মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে অমানবিক ও নৃশংস বলে উল্লেখ করেন। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, এমন ভয়ঙ্কর নবজাতক হত্যা ঘটনা এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিপা ও তার বর্তমান স্বামী দুলালকে আটক করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনে পারিবারিক চাপ, সামাজিক লজ্জা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।তিনি আরও জানান, এই নবজাতক হত্যা ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক ও সামাজিক সংকটের কারণে এ ধরনের নির্মম ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে তারা শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তায় প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন।
আরোও পড়ুন - তালাশ টিম নাম ব্যবহার করে প্রতারণা, রংপুরে সাধারণ মানুষ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ