
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : নাদিমুল হক
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক দুই অভিযানে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবেই এই সাফল্য এসেছে। স্থানীয়দের মাঝেও এ নিয়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। সাম্প্রতিক সময়ে “ত্রিশালে গাঁজা” কেনাবেচা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানে যায়।
ত্রিশাল থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে রাতভর পরিচালিত বিশেষ অভিযানে উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের নওপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূট্টো (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি নওপাড়া এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পুলিশের তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ৩৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। “ত্রিশালে গাঁজা” সরবরাহের একটি চক্র সম্পর্কেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, ৯ মে রাতে ত্রিশাল পৌরসভার দরিরামপুর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। ত্রিশাল সরকারি নজরুল কলেজের সামনে পাকা রাস্তার ওপর সন্দেহজনক অবস্থানে থাকা মোছাঃ বেবী খাতুন (৫২) কে আটক করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, “ত্রিশালে গাঁজা” ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ত্রিশালের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে মাদক কেনাবেচা হয়ে আসছিল। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ সহজেই মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। এলাকাবাসীর মতে, “ত্রিশালে গাঁজা” বিক্রির সঙ্গে জড়িত আরও কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
ত্রিশাল থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক কারবারিদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যেখানেই মাদকের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গ্রেফতার হওয়া দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে “ত্রিশালে গাঁজা” ও অন্যান্য মাদক বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজও চালানো হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ঈদকে সামনে রেখে মাদক পাচার ও বিক্রির প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। এজন্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা এবং সন্দেহভাজন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে ত্রিশালকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন - খানপুরে ইয়াবা উদ্ধার অভিযান: ৩৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার