
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর বাগমারায় অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা একটি ভেকু মেশিন অকেজো করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরি ও মাটি বিক্রির অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে সাধারণ কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং কৃষিজমি রক্ষায় নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (০৯ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা। অভিযানে পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খনন করে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করার পরও অভিযুক্তরা কার্যক্রম বন্ধ না করায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে আমিনুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সময়ে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন অকেজো করে দেওয়া হয় যাতে পুনরায় অবৈধ পুকুর খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা না যায়। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ফসলি জমি কেটে পুকুর তৈরি করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক কৃষক অর্থের লোভে জমির উপরের উর্বর মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এছাড়া ভারী ট্রাক ও যানবাহনে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামের সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব খননের কারণে জলাবদ্ধতা ও মাটিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, নিয়মিত অভিযান না হলে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ফসলি জমি কেটে পুকুর তৈরি করলে ভূগর্ভস্থ পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া কৃষি নির্ভর এলাকার খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। তারা অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পুকুর খননের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা চক্রকে আইন অমান্য করে অবৈধ পুকুর খনন করতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও অবৈধভাবে মাটি কাটা বা পুকুর খননের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
আরোও পড়ুন - রাজশাহী সীমান্তে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও সিরাপ জব্দ