
মোঃ আলমগীর হোসাইন,
বিভাগীয় প্রধান, সংবাদ প্রতিদিন
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার হলি কেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকের চরম অবহেলার কারণেই এই সিজার মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই ক্লিনিক ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে অবস্থান করছে।
নিহত প্রসূতির নাম জান্নাতুল জীম (২১)। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর আজওয়াটারী গ্রামের মোঃ জহুর আলীর মেয়ে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও অপারেশনের পর থেকেই তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সিজার মৃত্যু নিয়ে আতঙ্ক ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল রাতে নাগেশ্বরীর হলি কেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জান্নাতুল জীমের সিজারিয়ান অপারেশন করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মোছাঃ রোকেয়া আক্তার বিজলী। অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। স্বজনদের অভিযোগ, যথাযথ মনিটরিং ও পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ারের ঘাটতি ছিল, যা শেষ পর্যন্ত সিজার মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা কিডনি জটিলতা ও প্রস্রাবের নালির সমস্যার কথা জানান বলে পরিবারের দাবি। এই পর্যায়ে পরিবার আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার চেষ্টা চালায়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল প্রাইম মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে টানা ১২ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত ১০ মে রবিবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান। পুরো ঘটনাটি এখন একটি আলোচিত সিজার মৃত্যু ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল ব্যবস্থাপনার কারণেই জান্নাতুল জীমের মৃত্যু হয়েছে। তারা দাবি করেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও রেফার ব্যবস্থা থাকলে এমন মর্মান্তিক সিজার মৃত্যু এড়ানো যেত। পরিবার দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত চিকিৎসকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
আরোও পড়ুন - কুড়িগ্রাম সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি