
শাহরিয়ার খান নাফিজ, হবিগঞ্জঃ
আমেরিকার সঙ্গে সম্পাদিত কথিত অসম ও দেশবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। সোমবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক ও শ্রমজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে অবিলম্বে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সমাবেশে সরকারের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও জোটের নেতা কমরেড নুরুজ্জামান তরফদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শফিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কমরেড পীযূষ চক্রবর্তী, সিপিবি হবিগঞ্জ জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কুমার রায়, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের নেতা জাফর আলী এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা শংকর শূল্কবৈদ্য। বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের জনগণকে না জানিয়ে এবং জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে এই আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, চুক্তির বিভিন্ন শর্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশকে আমেরিকার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি, কৃষিপণ্য ও বোয়িং বিমান কিনতে বাধ্য করা হবে। তাদের দাবি, এতে দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় শিল্প ও কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদেশি নির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতাকে সংকুচিত করা হচ্ছে। তাই দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের নামে দেশের ওপর এক ধরনের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। তারা অভিযোগ করেন, আমেরিকার সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা না করার শর্ত দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
নেতৃবৃন্দ আরও দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি শক্তির প্রভাবমুক্ত থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বাড়লেও সরকার বিদেশি স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। সমাবেশ থেকে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে সোচ্চার হতে হবে এবং সকল অসম চুক্তির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে চুক্তির বিভিন্ন শর্তের প্রতিবাদ জানান। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আরোও পড়ুন - সুনামগঞ্জে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার ও কোর্ট পরিদর্শনে সিলেট রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি