
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম এলাকায় কাবিটা প্রকল্পের আওতায় চলমান সিসি ঢালাই রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে “কাবিটা দুর্নীতি” নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থে উন্নয়ন কাজ হলেও প্রকল্পের মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব ধনিরাম এলাকার রাস্তার সিসি ঢালাই কাজে নির্ধারিত মানের পাথর ও উন্নত বালুর পরিবর্তে ইটের ডাস্ট ও নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণ শ্রমিকরা দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্দেশ্যে অপর্যাপ্ত মিশ্রণে ঢালাই দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অনেকে জানান, কাজের শুরু থেকেই তারা অনিয়মের বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হলেও পরবর্তীতে আবারও একইভাবে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই “কাবিটা দুর্নীতি” ভবিষ্যতে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম ও রহিমা বেগমসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই রাস্তার কাজ শেষ করার তাড়া দেখিয়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কয়েক মাস যেতে না যেতেই এই রাস্তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে যদি এমন অনিয়ম চলতে থাকে, তাহলে সরকারি অর্থ অপচয় ছাড়া জনগণের কোনো উপকার হবে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, “কাবিটা দুর্নীতি” রোধে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দায়িত্বরত এলজিইডি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে কাজের মান ঠিক আছে বলে দাবি করেন। তবে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে তিনি সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার আশ্বাস দিলেও পরে পুনরায় একইভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদৌল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরবতাই “কাবিটা দুর্নীতি”কে আরও উৎসাহিত করছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা প্রভাব খাটিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করছেন। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সমর্থন থাকায় কেউ অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিম্নমানের কাজ বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
আরোও পড়ুন - খাস জমি নামজারি বিতর্কে কুড়িগ্রাম সদর এসিল্যান্ডকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা