
মোঃআইয়ুব আলী, লালপুর (নাটোর)প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার পোকন্দা রেললাইন এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঈশ্বরদী-আব্দুলপুর রেলপথে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই যুবক। প্রায় ২৯ বছর বয়সী নিহত ব্যক্তি কে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত লালপুর ট্রেন দুর্ঘটনা হিসেবে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে পোকন্দা এলাকার রেললাইন পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই যুবককে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মরদেহটি রেললাইনের পাশ থেকে সরিয়ে রাখেন। পরে খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় নিরাপদ পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে মানুষ রেললাইন অতিক্রম করেন। ফলে লালপুর ট্রেন দুর্ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পোকন্দা রেললাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অসতর্কভাবে মানুষ চলাচল করে আসছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় ট্রেনের গতি বেশি থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নিয়মিত জনসচেতনতা কার্যক্রম ও রেললাইনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কবার্তা বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপদ পারাপারের জন্য গেট অথবা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক লালপুর ট্রেন দুর্ঘটনা সেই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য আশপাশের থানা ও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, অসতর্কভাবে রেললাইন পার হওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রেলপথ এলাকায় মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র দুর্ঘটনার পর তদন্ত নয়, বরং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেললাইনের আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সতর্ক সংকেত এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করলে অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। নাটোরের লালপুরে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল এক মুহূর্তের অসতর্কতা কেড়ে নিতে পারে একটি তাজা প্রাণ।
আরোও পড়ুন - লালপুরে প্রবাসী ও সাধারণ গ্রাহকের আইডি হ্যাকিং চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার | ৯টি মোবাইল জব্দ