
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি : নাহিদ হাসান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। “আল-খিদমাহ্ উলামা পরিষদ, পলাশ” এবং স্থানীয় জনসাধারণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মুসলিম নিপীড়ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি ঘিরে পুরো এলাকায় ব্যাপক জনমত ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জুমার নামাজ শেষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নির্ধারিত স্থানে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পলাশের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ভারতের মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অনেকের হাতে ছিল প্রতিবাদী ব্যানার ও ফেস্টুন। ব্যানারে পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় মুসলিম নিপীড়ন প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলোর একটি।
মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা মুসলমানদের ওপর অন্যায়-অবিচার চালানো হলে তা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা অভিযোগ করেন, ভারতে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর উসকানিতে মুসলমানদের মাঝে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং এটি বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগজনক। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা।
সমাবেশে বক্তারা জাতিসংঘ, ওআইসি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি দ্রুত কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, মুসলমানদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্ব নেতাদের আরও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশের জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে মানবিক ও নৈতিক অবস্থান তুলে ধরার আহ্বান জানান। আয়োজকরা জানান, এই মুসলিম নিপীড়ন প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং নির্যাতিত মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা। পুরো কর্মসূচি জুড়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, সহিংসতা ও বিদ্বেষ কখনোই শান্তি বয়ে আনতে পারে না। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন তরুণ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার খবর দেখে তারা ব্যথিত হয়েছেন এবং সেই কারণেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে এসেছেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্বশান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন। দোয়ার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই মুসলিম নিপীড়ন প্রতিবাদ সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আরোও পড়ুন - জলঢাকায় জামায়াত সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত, সংগঠন শক্তিশালী করার আহ্বান