
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় সমাবেশ। শনিবার (১৬ মে) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাদ্রাসা মাঠ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর উত্তরাঞ্চলে এত বড় রাজনৈতিক জমায়েত নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহীর ১১ দলের সমাবেশ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
সমাবেশের মূল মঞ্চে টানানো বিশাল ব্যানারে ৪ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। ব্যানারে লেখা ছিল “দেশের ৭০ ভাগ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করো” এবং “পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা চাই”। উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিনের পানি সংকট, খরা মৌসুমে কৃষিতে বিপর্যয় এবং নদীভাঙনের প্রভাব তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পানি চুক্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় “দেশটা কারো বাপের না” স্লোগানটি উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় জোটের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের। এছাড়াও জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আমির, সভাপতি, মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চের বাম পাশে জোটের শীর্ষ ছয় নেতার ছবি সম্বলিত বড় ব্যানার টানানো হয়, যা সমাবেশস্থলে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর ১১ দলের সমাবেশ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অংশ।
দুপুর ১২টার পর থেকেই রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। অনেককে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা দাবি করেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও পানিসংকট এখন জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই পানি বণ্টনে ন্যায্য হিস্যা আদায় এখন সময়ের দাবি। এদিকে রাজশাহীর ১১ দলের সমাবেশ ঘিরে আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মাদ্রাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় র্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। মঞ্চের সামনে স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। প্রবেশপথে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট, কৃষকের দুর্ভোগ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সমাবেশ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করে খুব শিগগিরই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাদের দাবি, জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন চলমান থাকবে। সব মিলিয়ে রাজশাহীর ১১ দলের সমাবেশ রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আরোও পড়ুন - রাজশাহী-ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিযান: অপহরণকারী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার