
মোঃ আলমগীর হোসাইন, রংপুর বিভাগীয় প্রধানঃ
ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আয়োজন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে কুড়িগ্রামে পরিবহন শ্রমিকদের ব্যাপক শ্রমিক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে জেলা শহরের শাপলা চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক শ্রমিক অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনবিহীনভাবে সংগঠন পরিচালনার অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মতিয়ার রহমান তোকদার, সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আজাদ, সাবেক নির্বাহী সদস্য শফিকুল ইসলাম হৃদয় এবং সদস্য মাসুদ রানা ইকবালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা ট্রাক, ট্যাংকলড়ী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়ন-২৪৮৬ দীর্ঘদিন ধরে একটি সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের মতামত প্রতিফলিত হচ্ছে না এবং সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিস্বার্থকে কেন্দ্র করে গঠিত কমিটির কারণে প্রকৃত শ্রমিকরা নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বলেন, একটি শ্রমিক সংগঠনের মূল ভিত্তি হচ্ছে গণতান্ত্রিক নির্বাচন ও সদস্যদের মতামতের মূল্যায়ন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সংগঠনের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা কমে গেছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এ শ্রমিক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মতিয়ার রহমান তোকদার বলেন, শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুত ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। একইসঙ্গে তিনি সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সদস্যদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান। বক্তারা আরও দাবি করেন, শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা, দুর্ঘটনা বিমা এবং কল্যাণ তহবিলের কার্যক্রম সক্রিয় করতে হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেক শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তারা মনে করেন, একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হলে প্রকৃত নেতৃত্ব উঠে আসবে এবং শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। সদস্য মাসুদ রানা ইকবাল বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করা হলে কঠোর সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হবে। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং তারা স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলেন। এ সময় পুরো শহরে শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়।
কর্মসূচি শেষে শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং সংগঠনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শ্রমিকদের দাবি দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কুড়িগ্রামে চলমান এই শ্রমিক বিক্ষোভ এখন স্থানীয় রাজনীতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরোও পড়ুন - কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা: মাইক্রোবাস–ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১১