
সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। রবিবার (১৭ মে) রাতে উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বড় মৌকুড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে শৈলকুপা থানা পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় গোপনে অনলাইন জুয়া পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্টদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাননি। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বড় মৌকুড়ী গ্রামের গহরের চায়ের দোকানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন বয়সী যুবকদের আড্ডা জমত। স্থানীয়দের অভিযোগ, চায়ের দোকানের আড়ালে সেখানে নিয়মিত অনলাইন জুয়া খেলা হতো। মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকার তরুণদের একটি অংশ লেখাপড়া ও স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ অবস্থায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলে ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, মোঃ জাহিদ (৩৬), পিতা- তোহুর শিকদার; মোঃ বাবু (৪৫), পিতা- নায়েব আলী শেখ; মোঃ খবির (২৩), পিতা- নজরুল ইসলাম; মোঃ নবীন (২৬), পিতা- নজরুল ইসলাম; মোঃ মিলন (৩০), পিতা- রহিম এবং মোঃ মোশারফ (২৯), পিতা- মোঃ আনিচ। তাদের সবার বাড়ি বড় মৌকুড়ী গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশের দাবি, এলাকায় অনলাইন জুয়া বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বর্তমানে গ্রামের অনেক তরুণ মোবাইলভিত্তিক জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। তারা বলেন, স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিছু শিক্ষার্থীও এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা দ্রুত এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শৈলকুপা থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন জুয়া বর্তমানে গ্রামাঞ্চলেও বিস্তার লাভ করছে। সহজে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং অনলাইন লেনদেনের সুযোগ থাকায় অনেকেই দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তরুণ সমাজ বিপথে না যায়।
এদিকে অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই পুলিশের এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সচেতন মহল মনে করছে, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। একইসঙ্গে তারা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আরোও পড়ুন - মহেশপুর সীমান্তে মানব পাচার চক্র আটক: বিজিবির অভিযানে ৩ জন গ্রেফতার