
এনায়েত করিম রাজিব, (বাগেরহাট)
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কৃষককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের মধুরকাঠি গ্রামে সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে নিহত হন কৃষক মিঠু শেখ (৪৫)। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার বিচার দাবি করলেও অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এ ঘটনায় মোরেলগঞ্জে কৃষক হত্যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার বৌলপুর গ্রামের ওহেদ শেখের ছেলে মিঠু শেখ সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশের কলাক্ষেতে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান তিনি। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় মোরেলগঞ্জে কৃষক হত্যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
নিহত মিঠু শেখের পরিবারের সদস্যরা জানান, জমিজমা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েক মাস আগে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। পরিবারের দাবি, সেই বিরোধের জের ধরেই প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে মিঠু শেখকে হত্যা করেছে। নিহতের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোনো ঝামেলায় থাকতেন না। জমির বিরোধের কারণেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।” মিঠু শেখের পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা অবস্থায় পড়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, মোরেলগঞ্জে কৃষক হত্যা ঘটনায় দ্রুত বিচার না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে। ওসি জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, গ্রামীণ এলাকায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ছোটখাটো বিরোধও অনেক সময় প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে নিহতের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রতিবেশীরা বলছেন, মিঠু শেখ ছিলেন শান্ত স্বভাবের পরিশ্রমী কৃষক। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরোও পড়ুন - জমি নিয়ে হামলায় বাগেরহাটে নারী আহত, বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ