
মোঃ আলমগীর হোসাইন, রংপুর বিভাগীয়, ব্যুরো চিফঃ
কুড়িগ্রামে সাধারণ মানুষের জন্য ভূমি সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও দুর্নীতিমুক্ত করতে গণশুনানি ও ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। ভূমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, সেবা পেতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল, ঠিক তখনই জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে আয়োজিত এ গণশুনানিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং সরাসরি তাদের অভিযোগ, মতামত ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ বিভিন্ন সেবাকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে, যাতে মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়। তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিসে কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালি বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনাও দেন তিনি।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া অনেকেই জানান, অতীতে ভূমি অফিসে একটি সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। তবে বর্তমানে অনলাইনে আবেদন ও খাজনা পরিশোধের সুযোগ চালু হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি সেবা চালুর ফলে সাধারণ মানুষ আগের তুলনায় দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। একইসঙ্গে জনগণকে ই-নামজারি ও অনলাইন সেবা ব্যবহারে আরও সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম কুদরত-এ-খুদা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহঃ হুমায়ুন কবির এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি। এ লক্ষ্যেই জেলা প্রশাসন নিয়মিত গণশুনানি আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
গণশুনানিতে বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জমির রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান জটিলতা, নামজারি বিলম্ব এবং কর পরিশোধ সংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অভিযোগের সমাধান দেন এবং বাকি বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন। কর্মকর্তারা বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে কার্যকর ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে সরকারি সেবাকে শতভাগ অনলাইনভিত্তিক করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ জনের মাঝে মোট ৬৫ লাখ ৫২ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেব নাথ ভূমিসেবা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কুড়িগ্রামে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
আরোও পড়ুন- কুড়িগ্রামে ধরলা ভাঙন আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন