
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের চুলকাঠি এলাকার ভট্ট বালিয়াঘাটায় ভয়াবহ ট্রাক ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) সকালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক আব্দুল কাদেরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি দুইজনের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণেই আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো। সাম্প্রতিক সময়ে বাগেরহাট সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনাগামী একটি মোটরসাইকেলে তিন আরোহী চুলকাঠি এলাকার ভট্ট বালিয়াঘাটা অংশে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ওভারটেকিং করতে গিয়ে মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক আব্দুল কাদের মারা যান। এ সময় মহাসড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় প্রায়ই ভারী যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করে, যা নতুন করে বাগেরহাট সড়ক দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত দুই আরোহীকে উদ্ধার করে দ্রুত বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত তদারকি ও গতিনিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাগেরহাট সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কাটাখালী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাফর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, মহাসড়কে নিরাপদে চলাচলের জন্য চালকদের আরও সতর্ক হতে হবে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মহাসড়কে কঠোর নজরদারি বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বাগেরহাট সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খুলনা-মোংলা মহাসড়ক দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন এই পথে চলাচল করে। বিশেষ করে ভোর ও সকালে দ্রুতগতির ট্রাক চলাচলের কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের কয়েকটি অংশে স্পিড ব্রেকার, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরোও পড়ুন - জমি নিয়ে হামলায় বাগেরহাটে নারী আহত, বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ