
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ করেই শুরু হয় তীব্র দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও অঝোর ধারার বৃষ্টি। কয়েকদিনের অসহনীয় গরম ও তাপদাহের পর এমন আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দুপুর ১২টার পর থেকেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যেতে থাকে। মুহূর্তেই শুরু হয় মেঘের গর্জন, বিদ্যুতের ঝলকানি এবং প্রবল বাতাস। পরে ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় ভারী বর্ষণে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এমন স্বস্তির বৃষ্টি দেখেছে নবাবগঞ্জবাসী। নবাবগঞ্জে ঝড় বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।
গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে নবাবগঞ্জের জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ছিলেন। দুপুরের প্রচন্ড রোদে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যেত এবং ঘনঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছিল। এমন অবস্থার মধ্যেই শুক্রবারের এই আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তন অনেকের কাছে স্বস্তির বার্তা হয়ে আসে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দুপুরের পর থেকেই বাতাসের গতি বাড়তে থাকে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবাবগঞ্জে ঝড় বৃষ্টি নিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন।
এদিকে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিপাকে পড়েন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা রোদে ধান শুকাতে দিয়েছিলেন। বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করেন। তবে বৃষ্টির আগে কিছুটা সময় পাওয়ায় অনেকে ধান রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, একদিকে গরমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, অন্যদিকে বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতেও দেখা দিচ্ছিল শুষ্কতা। তাই এই বৃষ্টি কৃষির জন্য উপকারী হলেও আকস্মিক হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তাও তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবুও অধিকাংশ মানুষের মতে, নবাবগঞ্জে ঝড় বৃষ্টি জনজীবনে সাময়িক হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে।
বৃষ্টির সময় উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। অনেকে দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। দমকা হাওয়ার কারণে কয়েকটি এলাকায় গাছের ছোট ডাল ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে শিশু-কিশোরদের মাঝেও দেখা যায় বাড়তি উচ্ছ্বাস। অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করেন। বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। স্থানীয়দের ধারণা, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার আচরণ দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কখনও অতিরিক্ত তাপদাহ, আবার হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি জনজীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। নবাবগঞ্জেও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এদিকে শুক্রবারের এই স্বস্তির বৃষ্টির পর সাধারণ মানুষের মুখে কিছুটা হাসি ফিরেছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে এমন আবহাওয়া পরিবর্তনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে নবাবগঞ্জের প্রকৃতি ও জনজীবন।
আরোও পড়ুন - দোহারে বোরো ধান সংগ্রহ উদ্বোধন, কৃষকের ন্যায্যমূল্যে জিরো টলারেন্স ঘোষণা