
মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রোটারেক্ট ক্লাব অফ মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইল। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবসেবার অংশ হিসেবে শনিবার মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসজুড়ে পরিচালিত হয় ব্যতিক্রমধর্মী হাম সচেতনতা কার্যক্রম। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশমুখ, মেডিকেল সেন্টার ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আশপাশে হাম রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ক তথ্যসম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড স্থাপন করা হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রকোপ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসজনিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং কয়েকটি এলাকায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সচেতনতার অভাবই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এমন পরিস্থিতিতে মাভাবিপ্রবিতে আয়োজিত এই হাম সচেতনতা কার্যক্রম শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কার্যক্রম চলাকালে রোটারেক্ট ক্লাবের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের মাঝে সরাসরি লিফলেট বিতরণ করেন এবং হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা দেন। তারা জানান, জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে এমআর ভ্যাকসিন গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সচেতনতামূলক এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য।
এ বিষয়ে ক্লাবের বর্তমান সভাপতি রোটারেক্টর মোঃ সাকিব হাসান খান বলেন, “দেশজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। আমরা বিশ্বাস করি, সচেতনতা তৈরি করতে পারলে অনেকাংশে হাম প্রতিরোধ সম্ভব। তাই রোটারেক্ট ক্লাব অফ মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইল ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের হাম সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।” তিনি আরও বলেন, তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ক্লাবের সেবা পরিচালক নাইম হোসেন বলেন, “আমরা শুধু একটি ক্যাম্পেইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি।” তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করেই স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে।
সদস্যপদ উন্নয়ন কর্মকর্তা নওরোজ ইফতেখার রাফিন বলেন, “মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সামনের দিনগুলোতে আরও বড় পরিসরে জনকল্যাণমূলক ও হাম সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে, কারণ সচেতন সমাজ গড়তে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তার বক্তব্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, এমন উদ্যোগ বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অনেকেই হাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন না, কিন্তু এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা রোগটির ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং টিকা গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মানবসেবা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতাকে সামনে রেখে রোটারেক্ট ক্লাব অফ মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন - মাভাবিপ্রবি অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের নতুন নেতৃত্বে জহিরুল ও মাসফিকুর