
মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ
কুড়িগ্রামে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় নেতৃত্বকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতনতার অভাব, দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখনও অনেক পরিবার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, একটি বাল্যবিয়ে শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, বরং তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এখনই সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ফেডারেশন হলরুমে আয়োজিত “বাল্যবিবাহ সচেতনতা ও কিশোর-কিশোরীর ক্ষমতায়ন” বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেলগাছা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, যুব সংগঠনের সদস্য, কিশোর-কিশোরী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথি খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করা হলেও এখনও কিছু অসচেতন পরিবার নানা কারণে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন। এতে কিশোরীদের শারীরিক জটিলতা, মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি, মানসিক চাপ ও শিক্ষাজীবন বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষিত মেয়ে শুধু নিজের জীবনই পরিবর্তন করে না, বরং পুরো পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কিশোরীদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়াতে হবে।
বেলগাছা যুব সংগঠনের আয়োজনে এবং সিএনবি প্রজেক্ট ও আরডিআরএস বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম অঞ্চলের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সঞ্জীব গাইন, ফেডারেশন চেয়ারম্যান নুর ইসলাম, আরডিআরএস বাংলাদেশের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর অনাত বন্ধু এবং বেলগাছা যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাফি ইসলাম। বক্তারা বলেন, কিশোর-কিশোরীদের সচেতন ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারলে তারা নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে এবং সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারবে। একইসঙ্গে পরিবারগুলোকেও সচেতন করতে হবে যাতে তারা অল্প বয়সে সন্তানদের বিয়ের সিদ্ধান্ত না নেয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিক্ষা অব্যাহত রাখা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, অভিভাবক ও যুব সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে কিশোরীদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে এবং ঝরে পড়া রোধে স্থানীয় উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে প্রকল্পের সফলতা কামনা করে সমাপনী ঘোষণা করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও কিশোর-কিশোরীদের অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, সচেতন পরিবার ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে উঠলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ সহজ হবে এবং কিশোরীরা পাবে নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ।
আরোও পড়ুন - কুড়িগ্রামে জলাবদ্ধতা: দুর্ভোগে দুই বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী