বামনডাঙ্গায় তীররক্ষা ব্লকে অনিয়মের অভিযোগ, মাটি দিয়ে নির্মাণে ক্ষোভ

নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে দুধকুমার নদীর তীররক্ষা প্রকল্পের ব্লক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙন রোধে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বালুর পরিবর্তে মাটি মিশিয়ে ব্লক তৈরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই তীররক্ষা অনিয়ম চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোতে পুরো প্রকল্প হুমকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়মানি আদর্শ বাজার সংলগ্ন দুধকুমার নদীর পাড়ে সাইট ২৯/৩০ এলাকায় তীররক্ষা ব্লক নির্মাণকাজ চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত মান অনুযায়ী উন্নতমানের বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার না করে মাটি মিশিয়ে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। এতে ব্লকের স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের তীররক্ষা অনিয়ম শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, বরং নদীভাঙন কবলিত মানুষের জীবনের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কাজের শুরু থেকেই প্রকল্পে যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে। শ্রমিকরা প্রকাশ্যে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর নজরদারি দেখা যায়নি। স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “প্রতিবছর নদীভাঙনে আমাদের জমিজমা ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়। এবার সরকার তীররক্ষা প্রকল্প দিয়েছে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে কয়েকদিন পরেই ব্লক ভেঙে যাবে।” তার অভিযোগ, এই তীররক্ষা অনিয়ম বন্ধ না হলে প্রকল্পের সুফল জনগণ পাবে না।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নির্মাণকাজে ব্যবহার হওয়া ব্লকের গঠন শক্তি পরীক্ষা কিংবা উপকরণের মান যাচাইয়ের কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বর্ষাকালে নদীর প্রবল স্রোত শুরু হলে নিম্নমানের ব্লক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে নদীভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছে নদীভাঙন রোধে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যদি দুর্নীতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোনো সুরক্ষা পাবে না।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রকল্প এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজের গতি বাড়ানোর অজুহাতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে দুধকুমার নদীর ভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই টেকসই তীররক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের তীররক্ষা অনিয়ম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা বলছেন, নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে কঠোর মনিটরিং জরুরি। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করবে এবং মানসম্মত নির্মাণকাজ নিশ্চিত করবে। অন্যথায় সামনের বর্ষা মৌসুমে আবারও দুধকুমার নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে জলাবদ্ধতা: দুর্ভোগে দুই বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী

বামনডাঙ্গায় তীররক্ষা ব্লকে অনিয়মের অভিযোগ, মাটি দিয়ে নির্মাণে ক্ষোভ

মে ২৪, ২০২৬

নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে দুধকুমার নদীর তীররক্ষা প্রকল্পের ব্লক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙন রোধে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বালুর পরিবর্তে মাটি মিশিয়ে ব্লক তৈরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই তীররক্ষা অনিয়ম চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোতে পুরো প্রকল্প হুমকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়মানি আদর্শ বাজার সংলগ্ন দুধকুমার নদীর পাড়ে সাইট ২৯/৩০ এলাকায় তীররক্ষা ব্লক নির্মাণকাজ চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত মান অনুযায়ী উন্নতমানের বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার না করে মাটি মিশিয়ে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। এতে ব্লকের স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের তীররক্ষা অনিয়ম শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, বরং নদীভাঙন কবলিত মানুষের জীবনের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কাজের শুরু থেকেই প্রকল্পে যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে। শ্রমিকরা প্রকাশ্যে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর নজরদারি দেখা যায়নি। স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “প্রতিবছর নদীভাঙনে আমাদের জমিজমা ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়। এবার সরকার তীররক্ষা প্রকল্প দিয়েছে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে কয়েকদিন পরেই ব্লক ভেঙে যাবে।” তার অভিযোগ, এই তীররক্ষা অনিয়ম বন্ধ না হলে প্রকল্পের সুফল জনগণ পাবে না।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নির্মাণকাজে ব্যবহার হওয়া ব্লকের গঠন শক্তি পরীক্ষা কিংবা উপকরণের মান যাচাইয়ের কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বর্ষাকালে নদীর প্রবল স্রোত শুরু হলে নিম্নমানের ব্লক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে নদীভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছে নদীভাঙন রোধে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যদি দুর্নীতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোনো সুরক্ষা পাবে না।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রকল্প এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজের গতি বাড়ানোর অজুহাতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে দুধকুমার নদীর ভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই টেকসই তীররক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের তীররক্ষা অনিয়ম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা বলছেন, নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে কঠোর মনিটরিং জরুরি। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করবে এবং মানসম্মত নির্মাণকাজ নিশ্চিত করবে। অন্যথায় সামনের বর্ষা মৌসুমে আবারও দুধকুমার নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে জলাবদ্ধতা: দুর্ভোগে দুই বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী