লালমনিরহাটে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ, ক্ষোভে সাধারণ মানুষ

ফয়সাল সৌরভ (লালমনিরহাট)

লালমনিরহাটের বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদামে মিলারদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উন্নত মানের চাল সংগ্রহের কথা থাকলেও অসাধু মিলার ও কিছু গুদাম কর্মকর্তার যোগসাজশে পুরোনো, পোকাধরা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল গুদামে ঢুকছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য রাখা এসব চালের মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ভোক্তারা বলছেন, গুদামে মজুত থাকা অনেক চালই খাওয়ার অনুপযোগী এবং এসব চাল বিতরণ করা হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন খাদ্য গুদামে সম্প্রতি মিলারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে চালের মান যাচাই না করেই তা গুদামে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক বস্তা খুললেই দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং চালের ভেতরে পোকা ও ভাঙা দানার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, গুদাম কর্তৃপক্ষের একটি অংশ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমানের চাল গ্রহণ করছে। এতে সরকার যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্যের মানও ভয়াবহভাবে নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর তদারকির অভাবেই এই অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।

এর আগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী খাদ্য গুদামে বড় ধরনের চাল জালিয়াতির ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। সেখানে উন্নত মানের সরকারি চাল কালোবাজারে সরিয়ে রেখে গুদামে নিম্নমানের চাল মজুত করার অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন গুদাম কর্মকর্তা ফেরদৌস আলমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, সেই ঘটনার পর কিছুদিন অভিযান পরিচালনা করা হলেও বর্তমানে আবারও একই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বিভিন্ন খাদ্য গুদামে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

খাদ্য বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, মিলারদের সরবরাহ করা চালের আর্দ্রতা, রং, গন্ধ ও গুণগত মান পরীক্ষা করার পরই গুদামে সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়ার কথা। এছাড়া নিম্নমানের চাল সরবরাহ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মিলারের চুক্তি বাতিল ও কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ পেয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে করে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোক্তারা অবিলম্বে জেলার প্রতিটি সরকারি খাদ্য গুদামে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা উচিত নয়। খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সচেতন মহলের মতে, জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে এবং দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো গুদামে নিম্নমানের চাল প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ

লালমনিরহাটে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগ, ক্ষোভে সাধারণ মানুষ

মে ২৪, ২০২৬

ফয়সাল সৌরভ (লালমনিরহাট)

লালমনিরহাটের বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদামে মিলারদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উন্নত মানের চাল সংগ্রহের কথা থাকলেও অসাধু মিলার ও কিছু গুদাম কর্মকর্তার যোগসাজশে পুরোনো, পোকাধরা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল গুদামে ঢুকছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য রাখা এসব চালের মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ভোক্তারা বলছেন, গুদামে মজুত থাকা অনেক চালই খাওয়ার অনুপযোগী এবং এসব চাল বিতরণ করা হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন খাদ্য গুদামে সম্প্রতি মিলারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে চালের মান যাচাই না করেই তা গুদামে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক বস্তা খুললেই দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং চালের ভেতরে পোকা ও ভাঙা দানার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, গুদাম কর্তৃপক্ষের একটি অংশ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমানের চাল গ্রহণ করছে। এতে সরকার যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্যের মানও ভয়াবহভাবে নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর তদারকির অভাবেই এই অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।

এর আগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী খাদ্য গুদামে বড় ধরনের চাল জালিয়াতির ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। সেখানে উন্নত মানের সরকারি চাল কালোবাজারে সরিয়ে রেখে গুদামে নিম্নমানের চাল মজুত করার অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন গুদাম কর্মকর্তা ফেরদৌস আলমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, সেই ঘটনার পর কিছুদিন অভিযান পরিচালনা করা হলেও বর্তমানে আবারও একই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বিভিন্ন খাদ্য গুদামে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

খাদ্য বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, মিলারদের সরবরাহ করা চালের আর্দ্রতা, রং, গন্ধ ও গুণগত মান পরীক্ষা করার পরই গুদামে সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়ার কথা। এছাড়া নিম্নমানের চাল সরবরাহ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মিলারের চুক্তি বাতিল ও কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ পেয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে করে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোক্তারা অবিলম্বে জেলার প্রতিটি সরকারি খাদ্য গুদামে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা উচিত নয়। খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সচেতন মহলের মতে, জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে এবং দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো গুদামে নিম্নমানের চাল প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ