
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি, নাহিদ হাসানঃ
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল রেলস্টেশন এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে বজ্রপাতে সজিব সরকার (৪৩) নামে এক যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড়ের মধ্যেই ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে বজ্রপাত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যাত্রীদের মধ্যে।
নিহত সজিব সরকার নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের ফুলদি গ্রামের সামসুল হক সরকারের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে তিনি ছাদে উঠে বসেন বলে জানিয়েছেন সহযাত্রীরা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভয়াবহ ট্রেনের ছাদে বজ্রপাত ঘটনাটি মুহূর্তেই উৎসবের আনন্দকে শোকে পরিণত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘোড়াশাল রেলস্টেশন এলাকায় প্রবেশ করার সময় আকাশে প্রচণ্ড মেঘ ও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। ঠিক সেই সময় ট্রেনের ছয় নম্বর বগির ছাদে অবস্থানরত সজিব সরকারের শরীরে বজ্রপাত আঘাত হানে। বজ্রপাতের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছিটকে পড়ে অচেতন হয়ে যান। আশপাশে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভয়াবহ ট্রেনের ছাদে বজ্রপাত ঘটনার পর পুরো ট্রেনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ট্রেনটি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিচে নামায়। এ সময় স্টেশনে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের বুকের অংশ এবং পরনের জামার কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছিল। ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে অনেক যাত্রী কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, ঝড়-বৃষ্টির সময় ট্রেনের ছাদে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এখনও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে ভ্রমণ করেন। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বর্ষাকালে ট্রেনের ছাদে বজ্রপাত প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, স্টেশন মাস্টার এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে ট্রেনের ছাদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বজ্রপাতেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের শরীরে পোড়া দাগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে ট্রেনের ছাদে যাতায়াত বন্ধে আরও কঠোর নজরদারির কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঈদ কিংবা বড় ছুটির সময় ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে বহু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে যাতায়াত করেন। যদিও বাংলাদেশ রেলওয়ে বারবার এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে আসছে, তারপরও অনেক যাত্রী তা মানছেন না। বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়ার সময় ট্রেনের ছাদে থাকা কতটা বিপজ্জনক, ঘোড়াশালের এই ঘটনা আবারও সেটি সামনে এনে দিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যাত্রীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন - নরসিংদীর পলাশে পানিতে ডুবে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু