
মোঃ মাসুম মিয়া,প্রতিনিধি, নান্দাইল (ময়মনসিংহ)
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ যখন নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন, তখন নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে কিশোরগঞ্জ বরপোল সড়কে দেখা দিয়েছে চরম যাত্রী ভোগান্তি। বিশেষ করে পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অটোরিকশা, সিএনজি ও লোকাল বাস চালকদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন, যারা সীমিত আয়ের মধ্যেই ঈদের কেনাকাটা ও যাতায়াত ব্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ সময়ে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে কিশোরগঞ্জ বরপোল পর্যন্ত অটোরিকশা ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা হলেও বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ টাকা। একইভাবে সিএনজি চালকরাও স্বাভাবিক ৪০ টাকার পরিবর্তে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। লোকাল বাসেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীরা বলছেন, ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তেই কিছু অসাধু চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নিচ্ছেন।
ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে ফেরা যাত্রীরা জানান, দীর্ঘ ভ্রমণের পর নান্দাইল পৌঁছেও স্বস্তি মিলছে না। বাড়ি যেতে আবারও গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। অনেকে বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন কম ভাড়ার কোনো যানবাহনের আশায়। কিন্তু পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ফলে ঈদের আনন্দের বদলে যাত্রাপথেই বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষোভ।
ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী বলেন, “প্রতি ঈদেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না।” একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, কেউ ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে চালকদের অনেকেই খারাপ আচরণ করছেন। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সেটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মনে করছেন, উপজেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এই নৈরাজ্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকলে যাত্রীদের স্বস্তি ফিরতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষদের অভিযোগ, ঈদের সময় বাড়তি ভাড়ার কারণে তাদের দৈনন্দিন খরচ অনেক বেড়ে যায়। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, ঈদ আনন্দের উৎসব হলেও সড়কে অনিয়ম ও বাড়তি ভাড়া আদায়ের কারণে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঈদের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করবে।
আরোও পড়ুন - ময়মনসিংহে জাল নোট চক্রের ২ নারী গ্রেফতার, উদ্ধার ৬০ হাজার টাকা