
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী ব্যুরোঃ
দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ‘ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর ব্যস্ততম আলুপট্টি মোড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আয়োজকরা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ব্যাংকিং খাত রক্ষা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। মানববন্ধনে ব্যাংকের গ্রাহক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার, অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। বক্তারা বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ব্যাংকিং খাত রক্ষা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা আরও বলেন, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও অর্থপাচারের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়বে।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন। এসময় মহানগর জামায়াত নেতা ইঞ্জিনিয়ার মো. শাকিলুর রহমান শাকিল বলেন, “যারা লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জবাবদিহিতামূলক আর্থিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” তিনি বলেন, জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই ব্যাংকিং খাত রক্ষা এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপর বক্তা মো. জসিমউদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী না থাকলে দেশের বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, “সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে স্লোগান দেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল— ব্যাংক খাতে দুর্নীতি বন্ধ, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অর্থপাচার রোধ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ ধরে রাখতে হলে জনগণের ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তারা মনে করেন, সুশাসনভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
কর্মসূচির শেষ দিকে বক্তারা ব্যাংকিং খাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শুধু সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ জনগণকেও সচেতন হতে হবে। আর্থিক খাতে জবাবদিহিতা, নৈতিকতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করা সম্ভব। মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আরোও পড়ুন - রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা