
ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের কার্যক্রমে কথিত অবৈধ হস্তক্ষেপ ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকরা। মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, আমানতের নিরাপত্তা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানান। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ব্যাংক হস্তক্ষেপ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, দেশের বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে এ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে শুধু গ্রাহকরাই নয়, সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ব্যাংকটির ওপর আস্থা রেখে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেই আস্থা অটুট রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ব্যাংকের গ্রাহক ও ব্যবসায়ী শামসুজ্জামান জুয়েল, খুরশিদ আলম এবং অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান তুহিন। বক্তারা বলেন, “লুটেরা এস আলমের প্ররোচনায় ইসলামী ব্যাংকের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা আরও দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সুশাসন রক্ষায় প্রয়োজন হলে বৃহত্তর গণসচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও তারা জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা গেলে গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক হস্তক্ষেপ নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান তারা। বক্তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের ওপর সব ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা, ব্যাংকের স্বাধীন কার্যক্রম এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে গ্রাহকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। অন্যথায় সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতে বৃহত্তর ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।
ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। কর্মসূচি শেষে তারা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। উপস্থিত অনেকেই মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যেই তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আরোও পড়ুন- কুষ্টিয়ায় একদিনে নিখোঁজ তিনজন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে পরিবার