
মোস্তফা কামাল জয়, হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়কের গোয়াতলা কংশ নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাকের চাপে ধসে পড়েছে। এই বেইলি ব্রিজ ধসের ঘটনায় সড়কটির যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ধোবাউড়া, তারাকান্দা এবং আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গোয়াতলা কংশ নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপ, যাত্রীবাহী যান এবং পণ্যবাহী ট্রাক এই সড়ক দিয়ে চলাচল করত। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা থেকে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ভারী ট্রাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এসব ট্রাকের অধিকাংশই নির্ধারিত ওজনের তুলনায় অতিরিক্ত বালু বহন করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেতুর ওপর ক্রমাগত অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার আগে থেকেই ব্রিজটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ও কাঠামোগত দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। স্থানীয় জনগণ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও স্থায়ী কোনো সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবশেষে ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করতে না পেরে বেইলি ব্রিজ ধসের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ সেতুটি ভেঙে পড়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে বেইলি ব্রিজ ধসের কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং রোগী বহনকারী যানবাহনকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও বাড়তি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, এলাকাটিতে একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ফলে বেইলি ব্রিজ ধসের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এলাকাবাসী দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে জনদুর্ভোগ কমবে এবং ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়কের স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।
আরোও পড়ুন -হালুয়াঘাট কাঠের সেতু উদ্বোধন, বদলে যাবে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা