
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্ষোভ এবং ভোগান্তির পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেলেন রাজশাহীর চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) দ্রুত হস্তক্ষেপে আমিরপুর ফেরিঘাট এলাকায় স্থায়ী টোল চার্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ কমবে এবং ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে চর মাজারদিয়াড়সহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই ফেরিঘাট ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত হারের বাইরে টোল আদায়ের অভিযোগ থাকলেও এবার প্রশাসনের সরাসরি পদক্ষেপে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) চর মাজারদিয়াড়বাসীর পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে আমিরপুর ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি চরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে রাসিক সর্বদা তাদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।
প্রশাসকের নির্দেশনার পর বুধবার দুপুরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলমের নেতৃত্বে রাসিকের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে আমিরপুর ফেরিঘাট পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে ফেরিঘাটের বর্তমান অবস্থা, টোল আদায়ের পদ্ধতি এবং যাত্রীদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিধি দল জানতে পারে, দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত টোল হার সম্পর্কে অধিকাংশ যাত্রী অবগত ছিলেন না। ফলে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। এ অবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
পরিদর্শন শেষে ফেরিঘাটে স্থায়ীভাবে দুটি টোল চার্ট স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত টোল হার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দৃশ্যমান স্থানে চার্ট স্থাপন করা হবে যাতে যাত্রীরা সহজেই ভাড়ার তালিকা দেখতে পারেন। পাশাপাশি আমিরপুর ফেরিঘাট পরিচালনায় নিয়োজিত ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী টোল আদায়ের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে রাসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ নূর-ঈ সাঈদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার বিষয়ে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ আর হয়রানির শিকার হবেন না এবং যাতায়াত ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন জানিয়েছেন, নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন সবসময় আন্তরিক। তিনি বলেন, ফেরিঘাটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থায়ী টোল চার্ট স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমিরপুর ফেরিঘাট এলাকায় অতিরিক্ত টোল আদায়ের সুযোগ অনেকাংশে বন্ধ হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চর মাজারদিয়াড়সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত টোল চার্ট স্থাপন ও কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে ফেরিঘাটে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অবসান ঘটবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা পাবেন।
আরোও পড়ুন - রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা