
এনায়েত করীম রাজিব, (বাগেরহাট)
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে বাদ দিয়ে নতুন করে ৯৪ জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে চাকরিচ্যুত কর্মীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে তারা হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আন্দোলনরত কর্মীদের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে আউটসোর্সিং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা ৬৬ জন কর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবর্তে নতুন করে ৯৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অস্বচ্ছ ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করার পর হঠাৎ করে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরি হারানো অত্যন্ত অমানবিক সিদ্ধান্ত।
কর্মীরা আরও জানান, এই চাকরিই তাদের অধিকাংশ পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। চাকরি হারানোর ফলে ৬৬টি পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অনেকের সন্তান স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেলে সংসার পরিচালনার পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে। আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন না করে তাদের বাদ দেওয়া ন্যায়সংগত নয়। তারা অবিলম্বে চাকরি বহাল রাখা এবং পুরো আউটসোর্সিং নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা বলেন, তারা কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান না। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরতেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন। তাদের মতে, প্রশাসনের উচিত বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষদের হঠাৎ চাকরিচ্যুত করা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবার নয়, পুরো সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কর্মসংস্থান হারিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়বেন, যা সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা, মাদকাসক্তি ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সেবার মানও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন। তাই তারা স্বচ্ছতা, আইন এবং মানবিকতার সমন্বয়ে সমস্যার দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করবে। আদালতের রায়ের বাইরে হাসপাতাল প্রশাসনের এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফলে সংশ্লিষ্ট সবাই এখন আদালতের নির্দেশনার দিকেই তাকিয়ে আছেন।
বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এদিকে আন্দোলনরত কর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ফলে আউটসোর্সিং নিয়োগ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আরোও পড়ুন - বাগেরহাটে অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস, ৭ ভাটার ৪ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট