
মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিবঃ
চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক মোঃ মোমিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহিন গ্রেফতার হওয়ায় সোনারগাঁওজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সোনারগাঁও থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অবশেষে তাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মোঃ মোমিন (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁও থানার দড়িকান্দি থেকে বাংলাবাজার সড়কে অটোরিকশা (মিশুক) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অপরদিকে আসামি শাহিন (৪২) একই এলাকার দড়িকান্দি সিএনজি স্ট্যান্ডে লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এ কারণে দুজনের মধ্যে বিভিন্ন সময় গাড়ির সিরিয়াল, স্ট্যান্ড পরিচালনা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হতো। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই বিরোধই একপর্যায়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের রূপ নেয় এবং পরবর্তীতে তা হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৭ মে ২০২৬ দুপুর প্রায় ২টার দিকে দড়িকান্দি সিএনজি স্ট্যান্ডে অটোরিকশার সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাহিন ও মোমিনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শাহিন মোমিনের মাথা, মুখ ও গলায় এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, থাপ্পড় ও আঘাত করতে থাকে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, অচেতন অবস্থায় তার পকেটে থাকা প্রায় ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় অভিযুক্ত। পরে স্থানীয়রা তার বড় ভাইকে খবর দিলে তিনি আহত মোমিনকে প্রথমে মদনপুর আল-বারাকাহ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ২০ মে ২০২৬ সকাল ৬টা ৪১ মিনিটে মোঃ মোমিন মারা যান। এরপর পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মৃত্যুর ঘটনায় আগে দায়ের হওয়া মারামারি ও চুরির মামলাটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। মামলার পর থেকেই শাহিন গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে।
পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জনাব দীপংকর ঘোষের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ৩ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে মেঘনা থানা পুলিশের সহযোগিতায় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে পরিচালনায় অভিযানে শাহিন গ্রেফতার হয়। অভিযানের সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে নেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনসহ তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শাহিন গ্রেফতার হওয়ায় মামলার তদন্তে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছে পুলিশ।
আরোও পড়ুন - নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও