কাশিমাড়ী নতুন বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাশিমাড়ী নতুন বাজারের উত্তর পার্শ্ব এলাকায় সরকারি খাল ভরাট করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত নয়ন খালের একটি বড় অংশ পরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, এক সময়কার প্রশস্ত সরকারি খালটি এখন অনেকাংশে সংকুচিত হয়ে গেছে। খালের বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলে সমতল করে জমির আদল তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বাঁশ ও জালের বেড়া দিয়ে খাল ঘিরে ফেলা হয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় পানি নিষ্কাশনে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশিমাড়ী নতুন বাজারের উত্তর পার্শ্ব গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ওজিয়ার গাজীর পুত্র মোঃ আকবর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি নয়ন খালের অংশবিশেষ দখল করে ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ধাপে ধাপে খাল ভরাট করে জমিতে রূপান্তর করা হচ্ছে, যাতে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়।
গ্রামবাসীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়েই আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ির অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যেত। বর্তমানে খালটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল দখলের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই প্রভাবশালীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে সাহস পাচ্ছেন না। সরেজমিনে আরও দেখা যায়, খালের ওপর কোনো সরকারি সীমানা পিলার কিংবা দখলমুক্ত রাখার সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই, যা দখলদারদের কার্যক্রমকে আরও সহজ করে তুলেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আকবর হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি খাল দখল শুধু আইনবিরোধী কাজ নয়, এটি পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়ায়। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে কাশিমাড়ী নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, ফসলহানি এবং পরিবেশগত সংকট দেখা দিতে পারে।
স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি নয়ন খাল পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।

কাশিমাড়ী নতুন বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫

শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাশিমাড়ী নতুন বাজারের উত্তর পার্শ্ব এলাকায় সরকারি খাল ভরাট করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত নয়ন খালের একটি বড় অংশ পরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, এক সময়কার প্রশস্ত সরকারি খালটি এখন অনেকাংশে সংকুচিত হয়ে গেছে। খালের বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলে সমতল করে জমির আদল তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বাঁশ ও জালের বেড়া দিয়ে খাল ঘিরে ফেলা হয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় পানি নিষ্কাশনে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশিমাড়ী নতুন বাজারের উত্তর পার্শ্ব গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ওজিয়ার গাজীর পুত্র মোঃ আকবর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি নয়ন খালের অংশবিশেষ দখল করে ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ধাপে ধাপে খাল ভরাট করে জমিতে রূপান্তর করা হচ্ছে, যাতে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়।
গ্রামবাসীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়েই আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ির অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যেত। বর্তমানে খালটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল দখলের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই প্রভাবশালীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে সাহস পাচ্ছেন না। সরেজমিনে আরও দেখা যায়, খালের ওপর কোনো সরকারি সীমানা পিলার কিংবা দখলমুক্ত রাখার সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই, যা দখলদারদের কার্যক্রমকে আরও সহজ করে তুলেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আকবর হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি খাল দখল শুধু আইনবিরোধী কাজ নয়, এটি পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়ায়। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে কাশিমাড়ী নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, ফসলহানি এবং পরিবেশগত সংকট দেখা দিতে পারে।
স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি নয়ন খাল পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।