সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মেহের আলী মেম্বারকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরপরই তিনি নিজের অবস্থান বদলালেও পরবর্তীতে নির্বাচনের সময় স্থানীয় এমপির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে শুভেচ্ছা জানান। বিষয়টি এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয় এবং ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, টেন্ডারবাজি এবং সরকারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে মেহের আলী মেম্বার এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নামধারী কিছু বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে এখনও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে মাদক, জুয়া, সরকারি সম্পত্তি দখল এবং সংখ্যালঘুদের জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও জানা যায়, ইছামতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে দখল করে মেহের আলী মেম্বার এর পরিবারের সদস্যদের নামে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজানগরের মির্জাকান্দা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নদীর অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, খাল দখল করে পাকা ঘাটলা তৈরি এবং বাড়ির সামনে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। এসব কার্যক্রম পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন মেহের আলী মেম্বার। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিতর্কিত কেউ তাদের দলে গ্রহণযোগ্য নয়।

নদী দখল ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে রাজানগর ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদার মো. রাজেশ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেননি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের নিরবতা স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান কাজল বলেন, “যে কেউ নিজের স্বার্থে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু দল তা গ্রহণ করে না। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যানার অপসারণ করেছি।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে দলীয় অবস্থান কঠোর রয়েছে।

সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—এত অভিযোগের পরও কীভাবে মেহের আলী মেম্বার এখনও তার পদে বহাল আছেন? তার প্রভাবের উৎস কোথায়, এবং কার আশ্রয়ে তিনি এতদিন ধরে টিকে আছেন—এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ ও কৌতূহল।

আরোও পড়ুন – সিরাজদিখানে আওয়ামিলীগ এর মেহের আলী বিএনপিতে যোগদান, রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ালো

সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!

এপ্রিল ৮, ২০২৬

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মেহের আলী মেম্বারকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরপরই তিনি নিজের অবস্থান বদলালেও পরবর্তীতে নির্বাচনের সময় স্থানীয় এমপির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে শুভেচ্ছা জানান। বিষয়টি এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয় এবং ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, টেন্ডারবাজি এবং সরকারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে মেহের আলী মেম্বার এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নামধারী কিছু বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে এখনও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে মাদক, জুয়া, সরকারি সম্পত্তি দখল এবং সংখ্যালঘুদের জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও জানা যায়, ইছামতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে দখল করে মেহের আলী মেম্বার এর পরিবারের সদস্যদের নামে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজানগরের মির্জাকান্দা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নদীর অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, খাল দখল করে পাকা ঘাটলা তৈরি এবং বাড়ির সামনে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। এসব কার্যক্রম পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন মেহের আলী মেম্বার। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিতর্কিত কেউ তাদের দলে গ্রহণযোগ্য নয়।

নদী দখল ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে রাজানগর ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদার মো. রাজেশ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেননি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের নিরবতা স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান কাজল বলেন, “যে কেউ নিজের স্বার্থে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু দল তা গ্রহণ করে না। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যানার অপসারণ করেছি।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে দলীয় অবস্থান কঠোর রয়েছে।

সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—এত অভিযোগের পরও কীভাবে মেহের আলী মেম্বার এখনও তার পদে বহাল আছেন? তার প্রভাবের উৎস কোথায়, এবং কার আশ্রয়ে তিনি এতদিন ধরে টিকে আছেন—এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ ও কৌতূহল।

আরোও পড়ুন – সিরাজদিখানে আওয়ামিলীগ এর মেহের আলী বিএনপিতে যোগদান, রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ালো