দক্ষিণ রাউজানে বিশ্বশান্তি যজ্ঞে হাজারো ভক্তের সমাগম

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার দক্ষিণ রাউজান কোয়েপাড়ায় শুভ অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে আয়োজিত ১৬তম বিশ্বশান্তি যজ্ঞ ও চতুষ্প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৬, রবি ও সোমবার দুইদিনব্যাপী এ আয়োজন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। আয়োজকদের মতে, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ বিশ্বশান্তি যজ্ঞ প্রতি বছর আয়োজন করা হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়, যা পুরো আয়োজনে এক পবিত্র আবহ তৈরি করে। এরপর শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ ও বিশ্বশান্তি যজ্ঞ পরিচালনা করেন শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ ব্রহ্মচারী। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুসারে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের মাঝে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগ্রত করে। আয়োজনে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, এমন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।

অনুষ্ঠানমালায় ছিল আদ্যা মায়ের পূজা, গঙ্গা পূজা, ঠাকুরের পূজা, রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণ। পাশাপাশি শ্যামা সংগীত ও ধর্মীয় আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাতৃ আহ্বান ও গঙ্গা আহ্বানের মধ্য দিয়ে ভক্তিমূলক পরিবেশ আরও গভীর হয়ে ওঠে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি যজ্ঞ শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও বহন করে।

চতুষ্প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞে শুভ অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করে শ্রী কৃষ্ণ বলরাম সম্প্রদায়। ঊষালগ্নে মহানামযজ্ঞের সূচনা হয়ে দিনব্যাপী কীর্তন, নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলে। সন্ধ্যায় পূর্ণাহুতির মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ মহতী আয়োজন। এতে অংশগ্রহণ করে রাউজানের শ্রী কৃষ্ণ বলরাম ও সত্যনারায়ণ সম্প্রদায়, রাঙ্গামাটির শ্রী কৈবল্যকুঞ্জ সম্প্রদায় এবং যশোরের শ্রী গৌরাঙ্গ সম্প্রদায়। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সমগ্র অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন মাতৃ সাধক শ্রী ঝুন্টু চক্রবর্ত্তী। হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ভক্তিময় পরিবেশে রূপ নেয়। ভক্তদের মতে, এমন বিশ্বশান্তি যজ্ঞ সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

এদিকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মায়ের শ্রীমন্দিরের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এ মহৎ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। অনুদান পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বরও প্রদান করা হয়েছে (01749-166593), যা দিয়ে যে কেউ সহজেই সহায়তা করতে পারবেন।

সার্বিকভাবে, ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রতিবছর এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন – সীতাকুণ্ডে মা মগধেশ্বরী খোলার বাৎসরিক অনুষ্ঠান ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন

দক্ষিণ রাউজানে বিশ্বশান্তি যজ্ঞে হাজারো ভক্তের সমাগম

এপ্রিল ২০, ২০২৬

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার দক্ষিণ রাউজান কোয়েপাড়ায় শুভ অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে আয়োজিত ১৬তম বিশ্বশান্তি যজ্ঞ ও চতুষ্প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৬, রবি ও সোমবার দুইদিনব্যাপী এ আয়োজন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। আয়োজকদের মতে, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ বিশ্বশান্তি যজ্ঞ প্রতি বছর আয়োজন করা হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়, যা পুরো আয়োজনে এক পবিত্র আবহ তৈরি করে। এরপর শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ ও বিশ্বশান্তি যজ্ঞ পরিচালনা করেন শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ ব্রহ্মচারী। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুসারে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের মাঝে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগ্রত করে। আয়োজনে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, এমন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।

অনুষ্ঠানমালায় ছিল আদ্যা মায়ের পূজা, গঙ্গা পূজা, ঠাকুরের পূজা, রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণ। পাশাপাশি শ্যামা সংগীত ও ধর্মীয় আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাতৃ আহ্বান ও গঙ্গা আহ্বানের মধ্য দিয়ে ভক্তিমূলক পরিবেশ আরও গভীর হয়ে ওঠে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি যজ্ঞ শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও বহন করে।

চতুষ্প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞে শুভ অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করে শ্রী কৃষ্ণ বলরাম সম্প্রদায়। ঊষালগ্নে মহানামযজ্ঞের সূচনা হয়ে দিনব্যাপী কীর্তন, নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলে। সন্ধ্যায় পূর্ণাহুতির মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ মহতী আয়োজন। এতে অংশগ্রহণ করে রাউজানের শ্রী কৃষ্ণ বলরাম ও সত্যনারায়ণ সম্প্রদায়, রাঙ্গামাটির শ্রী কৈবল্যকুঞ্জ সম্প্রদায় এবং যশোরের শ্রী গৌরাঙ্গ সম্প্রদায়। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সমগ্র অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন মাতৃ সাধক শ্রী ঝুন্টু চক্রবর্ত্তী। হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ভক্তিময় পরিবেশে রূপ নেয়। ভক্তদের মতে, এমন বিশ্বশান্তি যজ্ঞ সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

এদিকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মায়ের শ্রীমন্দিরের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এ মহৎ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। অনুদান পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বরও প্রদান করা হয়েছে (01749-166593), যা দিয়ে যে কেউ সহজেই সহায়তা করতে পারবেন।

সার্বিকভাবে, ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রতিবছর এ আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন – সীতাকুণ্ডে মা মগধেশ্বরী খোলার বাৎসরিক অনুষ্ঠান ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন