জুয়েল শেখ, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক হামলা ঘটনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস কক্ষে। সংবাদ প্রকাশের জেরে আমানউল্লাহ আমান নামে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি দৈনিক কালবেলার ক্ষেতলাল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পর জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরীর অফিস কক্ষে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে চলমান বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই সময় ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক কয়েকজন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমানও। কিছুক্ষণ পর পূর্বে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সূত্রগুলো জানায়, সরকারি পুকুরের মাটি ও বালু উত্তোলন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটির মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি আমানউল্লাহ আমানের ওপর চড়াও হন। এ সময় তাকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অফিস কক্ষে উপস্থিত অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রশাসনিক কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন সাংবাদিক হামলা ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সংবাদ প্রকাশ করায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত দোষীরা শনাক্ত হবে এবং তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি, সামান্য ঠেলাঠেলি হয়েছে মাত্র। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ঘটনার বর্ণনা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনিক অফিসে এ ধরনের সাংবাদিক হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত।
ক্ষেতলাল থানার ওসি মোক্তাদুল আলম জানান, ইউএনওর ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখতে পান এবং তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেন। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হওয়া বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমানকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে পুলিশ সহায়তা করে। থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা বলেন, দায়িত্বশীল সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ায় পেশাজীবী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্ষেতলালের এই সাংবাদিক হামলা ঘটনারও দ্রুত বিচার দাবি উঠেছে।
আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও
ক্ষেতলালে সাংবাদিক হামলা: ইউএনও অফিস কক্ষে সংবাদকর্মীকে মারধরের অভিযোগ
জুয়েল শেখ, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক হামলা ঘটনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস কক্ষে। সংবাদ প্রকাশের জেরে আমানউল্লাহ আমান নামে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি দৈনিক কালবেলার ক্ষেতলাল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পর জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরীর অফিস কক্ষে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে চলমান বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই সময় ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক কয়েকজন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমানও। কিছুক্ষণ পর পূর্বে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সূত্রগুলো জানায়, সরকারি পুকুরের মাটি ও বালু উত্তোলন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটির মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি আমানউল্লাহ আমানের ওপর চড়াও হন। এ সময় তাকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অফিস কক্ষে উপস্থিত অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রশাসনিক কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন সাংবাদিক হামলা ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সংবাদ প্রকাশ করায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত দোষীরা শনাক্ত হবে এবং তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি, সামান্য ঠেলাঠেলি হয়েছে মাত্র। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ঘটনার বর্ণনা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনিক অফিসে এ ধরনের সাংবাদিক হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত।
ক্ষেতলাল থানার ওসি মোক্তাদুল আলম জানান, ইউএনওর ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখতে পান এবং তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেন। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হওয়া বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমানকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে পুলিশ সহায়তা করে। থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা বলেন, দায়িত্বশীল সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ায় পেশাজীবী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্ষেতলালের এই সাংবাদিক হামলা ঘটনারও দ্রুত বিচার দাবি উঠেছে।
আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও