মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির পাকা ও আধা-পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নাসিরনগর ধান ডুবি ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই কৃষকরা, যারা এখনো সময়মতো ধান কাটতে পারেননি। কয়েক মাসের পরিশ্রম, ঋণের টাকা ও সংসারের আশা-ভরসা একসঙ্গে পানিতে ভেসে যাওয়ায় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই থেকে তিন দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার মেদীর হাওর, গোয়ালনগর, মাছমা ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। মাঠে থাকা ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই জমিতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত পানি এবং পরিবহন সমস্যার কারণে ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নাসিরনগর ধান ডুবি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মেদীর হাওরের কৃষক আইন উদ্দিন জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। মাত্র দুই বিঘার ধান কাটতে পেরেছেন, বাকি সব জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ধারদেনা করে চাষ করেছি, এখন কীভাবে পরিবার চালাবো জানি না। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কৃষক এখলাছ মিয়া, মধু মিয়া, মন্টু মিয়া ও ফুল মিয়া। তাদের ভাষ্য, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর ঝুঁকি বাড়ছে। এবারের নাসিরনগর ধান ডুবি তাদের পথে বসিয়ে দিতে পারে।
গোয়ালনগর ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ অনেক জায়গায় পানি আটকে রাখছে, আবার কোথাও সঠিকভাবে কাজ না করায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের দাবি, সময়মতো বাঁধ মেরামত, পানি চলাচলের পথ খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত হারভেস্টার বা শ্রমিক সরবরাহ করা গেলে ক্ষতি অনেক কমানো যেত। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, নাসিরনগরে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি জমিতে টানা বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছে। এখনই ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিনা নাছরিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন কাজ করছে। জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের আশা, দ্রুত সরকারি প্রণোদনা, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। এদিকে নাসিরনগর ধান ডুবি ঘটনায় পুরো হাওরাঞ্চলে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
আরোও পড়ুন – ঝিনাইদহ মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি, বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি
নাসিরনগর ধান ডুবি: ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরে কৃষকের কান্না
মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির পাকা ও আধা-পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নাসিরনগর ধান ডুবি ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই কৃষকরা, যারা এখনো সময়মতো ধান কাটতে পারেননি। কয়েক মাসের পরিশ্রম, ঋণের টাকা ও সংসারের আশা-ভরসা একসঙ্গে পানিতে ভেসে যাওয়ায় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই থেকে তিন দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার মেদীর হাওর, গোয়ালনগর, মাছমা ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। মাঠে থাকা ধান কাটা শেষ হওয়ার আগেই জমিতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত পানি এবং পরিবহন সমস্যার কারণে ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নাসিরনগর ধান ডুবি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মেদীর হাওরের কৃষক আইন উদ্দিন জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। মাত্র দুই বিঘার ধান কাটতে পেরেছেন, বাকি সব জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ধারদেনা করে চাষ করেছি, এখন কীভাবে পরিবার চালাবো জানি না। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কৃষক এখলাছ মিয়া, মধু মিয়া, মন্টু মিয়া ও ফুল মিয়া। তাদের ভাষ্য, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর ঝুঁকি বাড়ছে। এবারের নাসিরনগর ধান ডুবি তাদের পথে বসিয়ে দিতে পারে।
গোয়ালনগর ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ অনেক জায়গায় পানি আটকে রাখছে, আবার কোথাও সঠিকভাবে কাজ না করায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের দাবি, সময়মতো বাঁধ মেরামত, পানি চলাচলের পথ খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত হারভেস্টার বা শ্রমিক সরবরাহ করা গেলে ক্ষতি অনেক কমানো যেত। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, নাসিরনগরে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি জমিতে টানা বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছে। এখনই ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিনা নাছরিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন কাজ করছে। জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের আশা, দ্রুত সরকারি প্রণোদনা, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। এদিকে নাসিরনগর ধান ডুবি ঘটনায় পুরো হাওরাঞ্চলে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
আরোও পড়ুন – ঝিনাইদহ মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি, বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি