কালিয়াকৈরে ছাত্রী উত্যক্ত অভিযোগে যুবক গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সাহসী পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের ছাত্রী উত্যক্ত অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমবে বলে তারা আশা করছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাহেব বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা বাদশা মিয়া (১৮) দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করত। ছাত্রী উত্যক্ত করতে গিয়ে সে বাজে মন্তব্য, শিস দেওয়া, পথরোধ এবং অশোভন আচরণ করত বলে অভিযোগ উঠে। অনেক ছাত্রী ভয়ে পরিবারের কাছে কিছু না জানিয়ে মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছিল। কেউ কেউ একা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলেও জানা গেছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে শিক্ষকদের নজরে আসে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে নবম ও দশম শ্রেণির ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রী একত্রিত হয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কৌশলে অভিযুক্তকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনা হয়। পরে সে উপস্থিত হলে শিক্ষকরা তাকে অফিস কক্ষে আটকে রেখে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। শিক্ষার্থীদের এই সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফাহিম শাহরিয়ার বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিযুক্তের বক্তব্য শোনেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ছাত্রী উত্যক্ত ঘটনায় দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত বাদশা মিয়াকে ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং ঘটনার সত্যতা মিলেছে। আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ ছাত্রী উত্যক্ত বা ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, স্কুলগামী মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। তারা বিদ্যালয়ের সামনে টহল বাড়ানো, সিসিটিভি স্থাপন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল বলছে, শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় এটি একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ছাত্রী উত্যক্ত বন্ধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলেও মত দেন তারা।

আরোও পড়ুন – সড়কবাতি অকেজো: চুরি-ছিনতাই আতঙ্কে কালিয়াকৈর পৌরবাসী

কালিয়াকৈরে ছাত্রী উত্যক্ত অভিযোগে যুবক গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা

মে ১, ২০২৬

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সাহসী পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের ছাত্রী উত্যক্ত অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমবে বলে তারা আশা করছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাহেব বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা বাদশা মিয়া (১৮) দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করত। ছাত্রী উত্যক্ত করতে গিয়ে সে বাজে মন্তব্য, শিস দেওয়া, পথরোধ এবং অশোভন আচরণ করত বলে অভিযোগ উঠে। অনেক ছাত্রী ভয়ে পরিবারের কাছে কিছু না জানিয়ে মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছিল। কেউ কেউ একা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলেও জানা গেছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে শিক্ষকদের নজরে আসে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে নবম ও দশম শ্রেণির ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রী একত্রিত হয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কৌশলে অভিযুক্তকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনা হয়। পরে সে উপস্থিত হলে শিক্ষকরা তাকে অফিস কক্ষে আটকে রেখে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। শিক্ষার্থীদের এই সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফাহিম শাহরিয়ার বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিযুক্তের বক্তব্য শোনেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ছাত্রী উত্যক্ত ঘটনায় দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত বাদশা মিয়াকে ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং ঘটনার সত্যতা মিলেছে। আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ ছাত্রী উত্যক্ত বা ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, স্কুলগামী মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। তারা বিদ্যালয়ের সামনে টহল বাড়ানো, সিসিটিভি স্থাপন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল বলছে, শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় এটি একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ছাত্রী উত্যক্ত বন্ধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলেও মত দেন তারা।

আরোও পড়ুন – সড়কবাতি অকেজো: চুরি-ছিনতাই আতঙ্কে কালিয়াকৈর পৌরবাসী