ইরানের পাল্টা হামলার হুমকি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১ মে, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক হামলা চালায়, তাহলে দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এই ইরান হামলা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম লাফিয়ে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছে যায়। পরে কিছুটা কমে এলেও বাজারে অস্থিরতা রয়ে গেছে। এই ইরান হামলা কেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংকট চললে পরিবহন খরচ, খাদ্যপণ্য ও বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে।

গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করার খবর প্রকাশের পর বাজারে আবারও চাপ তৈরি হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, শুধু যুদ্ধ থামলেই সংকট শেষ হবে না; সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। ফলে ইরান হামলা পরিস্থিতির প্রভাব আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ড্রোন ও নজরদারি উড়োজাহাজ ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, শত্রুপক্ষ হামলা করলে তাদের আঞ্চলিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজও ঝুঁকির বাইরে থাকবে না। এমন বক্তব্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে এবং ইরান হামলা শব্দবন্ধ আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তারা ছাড়বে না। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও সতর্কতা বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নাগরিকদের ইরান, ইরাক ও লেবানন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং অবস্থানরতদের দ্রুত ফিরে আসতে বলেছে। বিভিন্ন দেশ তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলোও বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে। কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যসংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলে তারা জলপথ উন্মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও এখন বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এতে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বিশ্ববাজারও বড় ধাক্কা খাবে। তাই এখন সবার নজর কূটনৈতিক সমাধানের দিকে।

আরোও পড়ুন – ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি চাপে, ট্রাম্প কূটনীতি খাদের কিনারে

ইরানের পাল্টা হামলার হুমকি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া

মে ১, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১ মে, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক হামলা চালায়, তাহলে দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এই ইরান হামলা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম লাফিয়ে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছে যায়। পরে কিছুটা কমে এলেও বাজারে অস্থিরতা রয়ে গেছে। এই ইরান হামলা কেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংকট চললে পরিবহন খরচ, খাদ্যপণ্য ও বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে।

গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করার খবর প্রকাশের পর বাজারে আবারও চাপ তৈরি হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, শুধু যুদ্ধ থামলেই সংকট শেষ হবে না; সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। ফলে ইরান হামলা পরিস্থিতির প্রভাব আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ড্রোন ও নজরদারি উড়োজাহাজ ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, শত্রুপক্ষ হামলা করলে তাদের আঞ্চলিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজও ঝুঁকির বাইরে থাকবে না। এমন বক্তব্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে এবং ইরান হামলা শব্দবন্ধ আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তারা ছাড়বে না। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও সতর্কতা বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নাগরিকদের ইরান, ইরাক ও লেবানন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং অবস্থানরতদের দ্রুত ফিরে আসতে বলেছে। বিভিন্ন দেশ তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলোও বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে। কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যসংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলে তারা জলপথ উন্মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও এখন বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এতে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বিশ্ববাজারও বড় ধাক্কা খাবে। তাই এখন সবার নজর কূটনৈতিক সমাধানের দিকে।

আরোও পড়ুন – ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি চাপে, ট্রাম্প কূটনীতি খাদের কিনারে