কুড়িগ্রাম ফিলিং স্টেশন জরিমানা: ১০ লিটারে ৩৫২ মিলি পেট্রোল কম, আড়াই লাখ টাকা দণ্ড

মোঃ আলমগীর হোসাইন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাটেশ্বরী এলাকায় জ্বালানি তেলে পরিমাণে কম সরবরাহ, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকাসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এই ফিলিং স্টেশন জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, পাটেশ্বরী এলাকার মেসার্স আর.আর ফিলিং স্টেশনে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে জ্বালানি তেলের পরিমাপ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় দেখা যায়, প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ৩৫২ মিলিলিটার কম দেওয়া হচ্ছিল। এছাড়া প্রতি ১০ লিটার ডিজেলেও ৫০ মিলিলিটার কম সরবরাহ করা হচ্ছিল। প্রশাসনের মতে, এটি সরাসরি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা। এসব অভিযোগে তাৎক্ষণিক ফিলিং স্টেশন জরিমানা করা হয়।

অভিযানে আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আন্ডারগ্রাউন্ড স্টোরেজ ট্যাংকের কোনো বৈধ ক্যালিব্রেশন চার্ট নেই। ফলে ট্যাংকে প্রকৃত কত জ্বালানি মজুদ রয়েছে, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়া ব্যবহৃত ট্রাক ওয়েব্রিজেরও প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশন সনদ পাওয়া যায়নি। এতে ব্যবসায়িক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন বলছে, নিয়ম না মানলে ভবিষ্যতেও ফিলিং স্টেশন জরিমানা অব্যাহত থাকবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও ছিল বড় ধরনের ঘাটতি। অভিযানের সময় ফিলিং স্টেশনে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়। জ্বালানি জাতীয় দাহ্য পদার্থের ব্যবসায় এ ধরনের অব্যবস্থা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তবে এবার প্রশাসনের অভিযানে সেসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রকৌশলী তাহাজিবুল ইসলাম ও প্রকৌশলী তাদমিরা শারমিন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত মনিটরিং বাড়ানো গেলে এ ধরনের প্রতারণা অনেকাংশে কমে আসবে।

অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক পরিমাপে জ্বালানি তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দ্রুত বিএসটিআই রংপুর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশন সনদ সংগ্রহেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। কেউ ভোক্তাদের ঠকানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আরোও পড়ুন- কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ভাঙন: স্কুল রক্ষায় শিশুদের মানববন্ধন, আতঙ্কে জনপদ

কুড়িগ্রাম ফিলিং স্টেশন জরিমানা: ১০ লিটারে ৩৫২ মিলি পেট্রোল কম, আড়াই লাখ টাকা দণ্ড

মে ১, ২০২৬

মোঃ আলমগীর হোসাইন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাটেশ্বরী এলাকায় জ্বালানি তেলে পরিমাণে কম সরবরাহ, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকাসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এই ফিলিং স্টেশন জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, পাটেশ্বরী এলাকার মেসার্স আর.আর ফিলিং স্টেশনে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে জ্বালানি তেলের পরিমাপ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় দেখা যায়, প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ৩৫২ মিলিলিটার কম দেওয়া হচ্ছিল। এছাড়া প্রতি ১০ লিটার ডিজেলেও ৫০ মিলিলিটার কম সরবরাহ করা হচ্ছিল। প্রশাসনের মতে, এটি সরাসরি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা। এসব অভিযোগে তাৎক্ষণিক ফিলিং স্টেশন জরিমানা করা হয়।

অভিযানে আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আন্ডারগ্রাউন্ড স্টোরেজ ট্যাংকের কোনো বৈধ ক্যালিব্রেশন চার্ট নেই। ফলে ট্যাংকে প্রকৃত কত জ্বালানি মজুদ রয়েছে, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়া ব্যবহৃত ট্রাক ওয়েব্রিজেরও প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশন সনদ পাওয়া যায়নি। এতে ব্যবসায়িক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন বলছে, নিয়ম না মানলে ভবিষ্যতেও ফিলিং স্টেশন জরিমানা অব্যাহত থাকবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও ছিল বড় ধরনের ঘাটতি। অভিযানের সময় ফিলিং স্টেশনে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়। জ্বালানি জাতীয় দাহ্য পদার্থের ব্যবসায় এ ধরনের অব্যবস্থা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তবে এবার প্রশাসনের অভিযানে সেসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রকৌশলী তাহাজিবুল ইসলাম ও প্রকৌশলী তাদমিরা শারমিন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত মনিটরিং বাড়ানো গেলে এ ধরনের প্রতারণা অনেকাংশে কমে আসবে।

অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক পরিমাপে জ্বালানি তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দ্রুত বিএসটিআই রংপুর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশন সনদ সংগ্রহেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। কেউ ভোক্তাদের ঠকানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আরোও পড়ুন- কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ভাঙন: স্কুল রক্ষায় শিশুদের মানববন্ধন, আতঙ্কে জনপদ