নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যান এলাকায় ভয়াবহ নাগোরদোলা দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন উদ্যানে চলন্ত অবস্থায় নাগোরদোলার একটি অংশ ভেঙে পড়ে শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকায় মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের কান্না ও স্বজনদের উৎকণ্ঠায় ঘটনাস্থল ভারী হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাগোরদোলাটি চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ বিকট শব্দ করে কেঁপে ওঠে। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রীবাহী অংশ নিচে পড়ে যায়। এতে নারী, শিশু ও কয়েকজন দর্শনার্থী আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ সময় অনেক দর্শনার্থী ছোটাছুটি শুরু করলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। আকস্মিক এই নাগোরদোলা দুর্ঘটনা দেখে অনেকে আতঙ্কে পরিবার নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আবুল মনসুর নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নাগোরদোলা পরিচালনা করা হচ্ছিল। নিয়মিত যন্ত্রাংশ পরীক্ষা, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং প্রশিক্ষিত কর্মী না থাকায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করেন। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ছুটির দিনে বাড়তি দর্শনার্থী এলেও তদারকি খুবই কম থাকে। তাই এ ধরনের নাগোরদোলা দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ গোলাম মাওলা জানান, আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভজন সরকার (৪০) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের শরীরে আঘাত থাকলেও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা শঙ্কামুক্ত আছেন।
এদিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। কী কারণে যন্ত্রাংশ ভেঙে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুমোদন, পরিচালনা পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরবাসী এখন প্রশ্ন তুলছেন, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় কীভাবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ রাইড চালু ছিল। নতুন করে নাগোরদোলা দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদনস্থলে নিয়মিত কারিগরি পরিদর্শন, লাইসেন্স যাচাই এবং জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা উচিত। নয়তো ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক এই নাগোরদোলা দুর্ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আরোও পড়ুন – নরসিংদীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় দিনমজুর নিহত
ময়মনসিংহে নাগোরদোলা দুর্ঘটনা, চলন্ত রাইড ভেঙে আহত ৫
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যান এলাকায় ভয়াবহ নাগোরদোলা দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন উদ্যানে চলন্ত অবস্থায় নাগোরদোলার একটি অংশ ভেঙে পড়ে শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকায় মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের কান্না ও স্বজনদের উৎকণ্ঠায় ঘটনাস্থল ভারী হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাগোরদোলাটি চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ বিকট শব্দ করে কেঁপে ওঠে। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রীবাহী অংশ নিচে পড়ে যায়। এতে নারী, শিশু ও কয়েকজন দর্শনার্থী আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ সময় অনেক দর্শনার্থী ছোটাছুটি শুরু করলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। আকস্মিক এই নাগোরদোলা দুর্ঘটনা দেখে অনেকে আতঙ্কে পরিবার নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আবুল মনসুর নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নাগোরদোলা পরিচালনা করা হচ্ছিল। নিয়মিত যন্ত্রাংশ পরীক্ষা, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং প্রশিক্ষিত কর্মী না থাকায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করেন। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ছুটির দিনে বাড়তি দর্শনার্থী এলেও তদারকি খুবই কম থাকে। তাই এ ধরনের নাগোরদোলা দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ গোলাম মাওলা জানান, আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভজন সরকার (৪০) নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের শরীরে আঘাত থাকলেও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা শঙ্কামুক্ত আছেন।
এদিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। কী কারণে যন্ত্রাংশ ভেঙে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুমোদন, পরিচালনা পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরবাসী এখন প্রশ্ন তুলছেন, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় কীভাবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ রাইড চালু ছিল। নতুন করে নাগোরদোলা দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদনস্থলে নিয়মিত কারিগরি পরিদর্শন, লাইসেন্স যাচাই এবং জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা উচিত। নয়তো ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক এই নাগোরদোলা দুর্ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আরোও পড়ুন – নরসিংদীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় দিনমজুর নিহত