বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা: নতুন এলাকা যুক্ত, বদলে যাচ্ছে নগর উন্নয়নের চিত্র

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এই সিটি কর্পোরেশনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বগুড়া পৌরসভাকে সম্প্রসারণ করে আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অংশ নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের পথ আরও সহজ করবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম, নাগরিক সুবিধা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এর আওতায় বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে নিশিন্দারা ইউনিয়ন, রাজাপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষ, শাখারিয়া ইউনিয়ন, আশেকপুর ইউনিয়ন, মাদলা ইউনিয়নের অংশবিশেষ, মাঝিড়া ইউনিয়ন, সাবগ্রাম ইউনিয়নের অংশবিশেষ, ফাঁপোড় ইউনিয়ন এবং এরুলিয়া ইউনিয়ন। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নগর সুবিধার চাহিদা বাড়ছিল। নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর ফলে সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার বিষয়ে মতামত গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় মতামত সংগ্রহ করে। এসব মতামত পর্যালোচনা শেষে সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে নতুন বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের পক্ষে জোরালো সুপারিশ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ফলে বগুড়ায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও যানবাহনের চাপের কারণে শহর এলাকায় নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। নতুন সিটি কর্পোরেশন গঠনের ফলে পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত উন্নয়ন এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। উন্নত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হলে আবাসন খাত, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্প খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে পর্যটন ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা। উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে বগুড়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে এবং নাগরিক সেবা সহজ ও আধুনিক করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে বগুড়ার উন্নয়নের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আরোও পড়ুন – ভাটরা ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া: আলোচনার শীর্ষে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম

বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা: নতুন এলাকা যুক্ত, বদলে যাচ্ছে নগর উন্নয়নের চিত্র

মে ১৬, ২০২৬

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এই সিটি কর্পোরেশনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বগুড়া পৌরসভাকে সম্প্রসারণ করে আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অংশ নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের পথ আরও সহজ করবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম, নাগরিক সুবিধা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এর আওতায় বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে নিশিন্দারা ইউনিয়ন, রাজাপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষ, শাখারিয়া ইউনিয়ন, আশেকপুর ইউনিয়ন, মাদলা ইউনিয়নের অংশবিশেষ, মাঝিড়া ইউনিয়ন, সাবগ্রাম ইউনিয়নের অংশবিশেষ, ফাঁপোড় ইউনিয়ন এবং এরুলিয়া ইউনিয়ন। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নগর সুবিধার চাহিদা বাড়ছিল। নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর ফলে সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার বিষয়ে মতামত গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় মতামত সংগ্রহ করে। এসব মতামত পর্যালোচনা শেষে সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে নতুন বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের পক্ষে জোরালো সুপারিশ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ফলে বগুড়ায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও যানবাহনের চাপের কারণে শহর এলাকায় নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। নতুন সিটি কর্পোরেশন গঠনের ফলে পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত উন্নয়ন এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। উন্নত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হলে আবাসন খাত, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্প খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে পর্যটন ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা। উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে বগুড়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে এবং নাগরিক সেবা সহজ ও আধুনিক করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে বগুড়ার উন্নয়নের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আরোও পড়ুন – ভাটরা ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া: আলোচনার শীর্ষে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম