ঈদের পরদিনই পরিচ্ছন্ন নগরী পাবে রাজশাহী, বললেন রাসিক প্রশাসক রিটন

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

পবিত্র ঈদুল আযহা-২০২৬ উপলক্ষে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ উপহার দিতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। ঈদের দিন রাতেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করে ঈদের পরদিন সকালে নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন রাজশাহী উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। নগরীর পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবার বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সিটি কর্পোরেশন।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে নগর ভবনের এনেক্স হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ওয়ার্ড সচিব, ওয়ার্ড সুপারভাইজার, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, মনিটরিং পরিদর্শক ও কেন্দ্রীয় সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসক রিটন বলেন, ঈদের সময় নগরবাসীর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই রাসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ঈদের দিন রাত থেকেই মাঠে কাজ শুরু করবেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—ঈদের পরদিন নগরবাসী যেন একটি সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাজশাহী দেখতে পান।”

সভায় জানানো হয়, এবার প্রথমবারের মতো নাগরিকদের জন্য পরিবেশবান্ধব বিশেষ ব্যাগ বিতরণ করবে রাসিক। কোরবানির মাংস স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণের জন্য আলাদা ব্যাগ এবং বর্জ্য সংগ্রহের জন্য পৃথক পরিবেশবান্ধব ব্যাগ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হবে যাতে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধ করা যায়। নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে রাসিক প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। একটি পরিচ্ছন্ন রাজশাহী গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর সেবার সুযোগ দিয়েছেন। আমি সেই দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালনের চেষ্টা করছি। রাজশাহীকে শুধু দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।” তিনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিগত সময়েও তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। আরও উপস্থিত ছিলেন রাসিক সচিব সোহেল রানা, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন (পরাগ) এবং উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু। কর্মকর্তারা জানান, নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোতায়েন করা হবে। এছাড়া বর্জ্য অপসারণে বিশেষ যানবাহন, ট্রলি ও পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সভায় অংশ নেওয়া সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা জানান, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। রাসিকের এ উদ্যোগে সাধারণ নাগরিকদের মাঝেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হলে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। ফলে ঈদের আনন্দের মধ্যেও নগরবাসী উপভোগ করতে পারবেন একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রাজশাহী।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে ঢোপকল সংরক্ষণে রাসিকের উদ্যোগ: ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনছে নগর ইতিহাস

ঈদের পরদিনই পরিচ্ছন্ন নগরী পাবে রাজশাহী, বললেন রাসিক প্রশাসক রিটন

মে ২১, ২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

পবিত্র ঈদুল আযহা-২০২৬ উপলক্ষে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ উপহার দিতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। ঈদের দিন রাতেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করে ঈদের পরদিন সকালে নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন রাজশাহী উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। নগরীর পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবার বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সিটি কর্পোরেশন।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে নগর ভবনের এনেক্স হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ওয়ার্ড সচিব, ওয়ার্ড সুপারভাইজার, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, মনিটরিং পরিদর্শক ও কেন্দ্রীয় সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসক রিটন বলেন, ঈদের সময় নগরবাসীর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই রাসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ঈদের দিন রাত থেকেই মাঠে কাজ শুরু করবেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—ঈদের পরদিন নগরবাসী যেন একটি সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাজশাহী দেখতে পান।”

সভায় জানানো হয়, এবার প্রথমবারের মতো নাগরিকদের জন্য পরিবেশবান্ধব বিশেষ ব্যাগ বিতরণ করবে রাসিক। কোরবানির মাংস স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণের জন্য আলাদা ব্যাগ এবং বর্জ্য সংগ্রহের জন্য পৃথক পরিবেশবান্ধব ব্যাগ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হবে যাতে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধ করা যায়। নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে রাসিক প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। একটি পরিচ্ছন্ন রাজশাহী গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর সেবার সুযোগ দিয়েছেন। আমি সেই দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালনের চেষ্টা করছি। রাজশাহীকে শুধু দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।” তিনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিগত সময়েও তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। আরও উপস্থিত ছিলেন রাসিক সচিব সোহেল রানা, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন (পরাগ) এবং উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু। কর্মকর্তারা জানান, নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোতায়েন করা হবে। এছাড়া বর্জ্য অপসারণে বিশেষ যানবাহন, ট্রলি ও পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সভায় অংশ নেওয়া সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা জানান, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। রাসিকের এ উদ্যোগে সাধারণ নাগরিকদের মাঝেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হলে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। ফলে ঈদের আনন্দের মধ্যেও নগরবাসী উপভোগ করতে পারবেন একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রাজশাহী।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে ঢোপকল সংরক্ষণে রাসিকের উদ্যোগ: ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনছে নগর ইতিহাস