রামিশা হত্যা প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ

দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে শিশু রামিশাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ। আয়োজকরা বলেন, রামিশা হত্যা প্রতিবাদ এখন শুধু একটি জেলার নয়, পুরো দেশের মানুষের ন্যায্য দাবিতে পরিণত হয়েছে।

ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চ, কুড়িগ্রামের ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ঘটনায় অপরাধীরা রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে ভয় ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, রামিশা হত্যা প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আব্দুর রশিদ গনি, আল ইমরান, আলমগীর হোসেন, আব্দুর রশিদ রনি, আব্দুর রাজ্জাক রাজ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নতুন কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক আসাদুজ্জামান রাজু। বক্তারা বলেন, নিষ্পাপ শিশু রামিশার ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে তা মানবতাকেও হার মানিয়েছে। তারা বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, দোষীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বক্তাদের ভাষ্য, রামিশা হত্যা প্রতিবাদ দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে এবং এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। সেখানে “নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ কর”, “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”, “রামিশার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই” ইত্যাদি স্লোগান লেখা ছিল। কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিক চাপ ও ভয়ভীতির কারণে মামলা চালিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশু ও নারীদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তারা স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আরও সক্রিয় করা, আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের মতে, রামিশা হত্যা প্রতিবাদ দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরোও পড়ুন – ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দোহারে মানববন্ধন, খুনিদের ফাঁসির দাবি

রামিশা হত্যা প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

মে ২৩, ২০২৬

মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ

দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে শিশু রামিশাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ। আয়োজকরা বলেন, রামিশা হত্যা প্রতিবাদ এখন শুধু একটি জেলার নয়, পুরো দেশের মানুষের ন্যায্য দাবিতে পরিণত হয়েছে।

ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চ, কুড়িগ্রামের ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ঘটনায় অপরাধীরা রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে ভয় ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, রামিশা হত্যা প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আব্দুর রশিদ গনি, আল ইমরান, আলমগীর হোসেন, আব্দুর রশিদ রনি, আব্দুর রাজ্জাক রাজ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নতুন কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক আসাদুজ্জামান রাজু। বক্তারা বলেন, নিষ্পাপ শিশু রামিশার ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে তা মানবতাকেও হার মানিয়েছে। তারা বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, দোষীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বক্তাদের ভাষ্য, রামিশা হত্যা প্রতিবাদ দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে এবং এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। সেখানে “নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ কর”, “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”, “রামিশার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই” ইত্যাদি স্লোগান লেখা ছিল। কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিক চাপ ও ভয়ভীতির কারণে মামলা চালিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশু ও নারীদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তারা স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আরও সক্রিয় করা, আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের মতে, রামিশা হত্যা প্রতিবাদ দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরোও পড়ুন – ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দোহারে মানববন্ধন, খুনিদের ফাঁসির দাবি