এস কে সামিউল ইসলাম, মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
দেশের বিচারিক ইতিহাসে আলোচিত এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে আলোচিত মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করে প্রধান আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি আইন সংশ্লিষ্ট মহলেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মোঃ তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হকের ছেলে শাকিল হোসেনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের ইছানুল হকের শিশু কন্যা মাঠে খাবার পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত শাকিল হোসেন তাকে কৌশলে পাশের একটি পাটখেতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত অভিযুক্তকে ধাওয়া করলে সে পালানোর চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা ইছানুল হক বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নথিভুক্ত হয় মামলা নম্বর-১৯, তারিখ ১৬/০৬/২০২৫ এবং জিআর কেস নম্বর-১৮২/২৫ হিসেবে। পরবর্তীতে এটি শিশু সহিংসতা দমন মামলা নম্বর-৩৬/২০২৬ হিসেবে আদালতে বিচারাধীন হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজন সাক্ষী ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে এবং বাকিরা সরাসরি আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য, মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালতের এমন দ্রুত বিচার ব্যবস্থাকে অনেকেই ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, শিশু নির্যাতনের মতো ভয়াবহ অপরাধে দ্রুত বিচার হওয়ায় অপরাধীদের জন্য এটি কঠোর বার্তা হয়ে থাকবে। অনেকেই মনে করছেন, বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ না হয়ে দ্রুত শেষ হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি পেয়েছে।
মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, আলোচিত মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলায় আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বিজন জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তবে আদালতের রায়ের পর স্থানীয় সচেতন মহল শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়লেও মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার দেশজুড়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের দ্রুত বিচার অব্যাহত থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন –মেহেরপুরে স্বামী খুন: স্ত্রীর সামনে খালাত ভাইয়ের কোপে রিকশাচালক নিহত
২৯ কার্যদিবসে মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, আসামির ফাঁসির আদেশ
এস কে সামিউল ইসলাম, মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
দেশের বিচারিক ইতিহাসে আলোচিত এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে আলোচিত মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করে প্রধান আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি আইন সংশ্লিষ্ট মহলেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মোঃ তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হকের ছেলে শাকিল হোসেনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের ইছানুল হকের শিশু কন্যা মাঠে খাবার পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত শাকিল হোসেন তাকে কৌশলে পাশের একটি পাটখেতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত অভিযুক্তকে ধাওয়া করলে সে পালানোর চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা ইছানুল হক বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নথিভুক্ত হয় মামলা নম্বর-১৯, তারিখ ১৬/০৬/২০২৫ এবং জিআর কেস নম্বর-১৮২/২৫ হিসেবে। পরবর্তীতে এটি শিশু সহিংসতা দমন মামলা নম্বর-৩৬/২০২৬ হিসেবে আদালতে বিচারাধীন হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজন সাক্ষী ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে এবং বাকিরা সরাসরি আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য, মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালতের এমন দ্রুত বিচার ব্যবস্থাকে অনেকেই ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, শিশু নির্যাতনের মতো ভয়াবহ অপরাধে দ্রুত বিচার হওয়ায় অপরাধীদের জন্য এটি কঠোর বার্তা হয়ে থাকবে। অনেকেই মনে করছেন, বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ না হয়ে দ্রুত শেষ হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি পেয়েছে।
মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, আলোচিত মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলায় আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বিজন জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তবে আদালতের রায়ের পর স্থানীয় সচেতন মহল শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়লেও মেহেরপুর শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার দেশজুড়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের দ্রুত বিচার অব্যাহত থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন –মেহেরপুরে স্বামী খুন: স্ত্রীর সামনে খালাত ভাইয়ের কোপে রিকশাচালক নিহত