জয়পুরহাটে শ্রেষ্ঠ এটিইও ইমরান হোসেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ অর্জন

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ জয়পুরহাট জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এটিইও নির্বাচিত হয়েছেন আক্কেলপুর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ইমরান হোসেন। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ বিদ্যালয়মুখী করা এবং ঝরে পড়া রোধে বিশেষ অবদান রাখায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে এ অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে মাঠপর্যায়ে তার নিরলস প্রচেষ্টা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ধারাবাহিক কাজ করায় তিনি জেলার মধ্যে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আক্কেলপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন মোঃ ইমরান হোসেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা এবং অভিভাবকদের সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই কার্যক্রমের ফলেই এবার তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এটিইও হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মোঃ ইমরান হোসেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহারে শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তার তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলে অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরিবেশ আগের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। শুধু শিক্ষা কার্যক্রম নয়, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বও তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে শ্রেষ্ঠ এটিইও নির্বাচিত করা হয়েছে।

পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, “যেকোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি পুরো আক্কেলপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সম্মিলিত সফলতা। সহকর্মী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করে যেতে চাই। এজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে যারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন তাদের মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে অন্য কর্মকর্তারাও উৎসাহিত হন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হন। তিনি বলেন, মোঃ ইমরান হোসেন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার এ অর্জন জেলার শিক্ষা প্রশাসনের জন্যও গর্বের বিষয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন নাহার বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মোঃ ইমরান হোসেন ভবিষ্যতেও শিক্ষার উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন এবং নতুন প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যোগ্য ও কর্মঠ কর্মকর্তাদের এমন স্বীকৃতি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে। জয়পুরহাটে শ্রেষ্ঠ এটিইও হিসেবে মোঃ ইমরান হোসেনের এই অর্জন নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – জয়পুরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় এনজিওকর্মীর মৃত্যু, নিহত BRAC কর্মকর্তা

জয়পুরহাটে শ্রেষ্ঠ এটিইও ইমরান হোসেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ অর্জন

মে ২৫, ২০২৬

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ জয়পুরহাট জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এটিইও নির্বাচিত হয়েছেন আক্কেলপুর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ইমরান হোসেন। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ বিদ্যালয়মুখী করা এবং ঝরে পড়া রোধে বিশেষ অবদান রাখায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে এ অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে মাঠপর্যায়ে তার নিরলস প্রচেষ্টা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ধারাবাহিক কাজ করায় তিনি জেলার মধ্যে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আক্কেলপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন মোঃ ইমরান হোসেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা এবং অভিভাবকদের সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই কার্যক্রমের ফলেই এবার তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এটিইও হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মোঃ ইমরান হোসেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহারে শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তার তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলে অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরিবেশ আগের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। শুধু শিক্ষা কার্যক্রম নয়, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বও তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে শ্রেষ্ঠ এটিইও নির্বাচিত করা হয়েছে।

পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, “যেকোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি পুরো আক্কেলপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সম্মিলিত সফলতা। সহকর্মী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করে যেতে চাই। এজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে যারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন তাদের মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে অন্য কর্মকর্তারাও উৎসাহিত হন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হন। তিনি বলেন, মোঃ ইমরান হোসেন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার এ অর্জন জেলার শিক্ষা প্রশাসনের জন্যও গর্বের বিষয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন নাহার বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মোঃ ইমরান হোসেন ভবিষ্যতেও শিক্ষার উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন এবং নতুন প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যোগ্য ও কর্মঠ কর্মকর্তাদের এমন স্বীকৃতি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে। জয়পুরহাটে শ্রেষ্ঠ এটিইও হিসেবে মোঃ ইমরান হোসেনের এই অর্জন নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – জয়পুরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় এনজিওকর্মীর মৃত্যু, নিহত BRAC কর্মকর্তা