নওগাঁয় নিখোঁজ শিশু জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার, তিন দিন পর নদীতে ভেসে উঠল

হারুনুর রশিদ সাপাহার( নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বলদিয়াঘাট এলাকায় পুনর্ভবা নদী থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর জুলহাস (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকালে স্থানীয়রা নদীতে একটি ভাসমান দেহ দেখতে পেয়ে কাছে গিয়ে সেটি শিশুটির বলে শনাক্ত করেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট্ট শিশুটির করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে সকালে দাদার সঙ্গে পুনর্ভবা নদীতে গোসল করতে যায় শিশু জুলহাস। গোসলের একপর্যায়ে হঠাৎ সে পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু টানা অনুসন্ধান চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে একপর্যায়ে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

রবিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নদীর পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও পথচারী। পরে কাছে গিয়ে তারা শিশুটিকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি জুলহাসের বলে নিশ্চিত করেন। এভাবেই তিন দিন পর জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

এদিকে শিশুটির মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, জুলহাস ছিল পরিবারের সবার আদরের সন্তান। তার অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে নদীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। অনেকেই নদীতে গোসল বা খেলাধুলার সময় শিশুদের আরও সতর্ক নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাই শিশুদের নদীতে নামার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তারা আরও বলেন, সময়মতো উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত ডুবুরি পৌঁছালে অনেক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নদীপাড়ের মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদী থেকে জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবরে আশপাশের এলাকাতেও শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শিশুটির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, নদীপাড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমে আসবে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন দিন ধরে সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অবশেষে নদী থেকে জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার হলেও সেই দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এলাকাবাসী শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীতে শিশুদের অবাধ চলাফেরা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

আরোও পড়ুন – সাপাহারে খাড়ি দখল: অবৈধ স্থাপনায় প্লাবনের ঝুঁকিতে ৮ গ্রাম

নওগাঁয় নিখোঁজ শিশু জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার, তিন দিন পর নদীতে ভেসে উঠল

মে ২৫, ২০২৬

হারুনুর রশিদ সাপাহার( নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বলদিয়াঘাট এলাকায় পুনর্ভবা নদী থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর জুলহাস (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকালে স্থানীয়রা নদীতে একটি ভাসমান দেহ দেখতে পেয়ে কাছে গিয়ে সেটি শিশুটির বলে শনাক্ত করেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট্ট শিশুটির করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে সকালে দাদার সঙ্গে পুনর্ভবা নদীতে গোসল করতে যায় শিশু জুলহাস। গোসলের একপর্যায়ে হঠাৎ সে পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু টানা অনুসন্ধান চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে একপর্যায়ে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

রবিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নদীর পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও পথচারী। পরে কাছে গিয়ে তারা শিশুটিকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি জুলহাসের বলে নিশ্চিত করেন। এভাবেই তিন দিন পর জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

এদিকে শিশুটির মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, জুলহাস ছিল পরিবারের সবার আদরের সন্তান। তার অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে নদীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। অনেকেই নদীতে গোসল বা খেলাধুলার সময় শিশুদের আরও সতর্ক নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাই শিশুদের নদীতে নামার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তারা আরও বলেন, সময়মতো উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত ডুবুরি পৌঁছালে অনেক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নদীপাড়ের মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদী থেকে জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবরে আশপাশের এলাকাতেও শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শিশুটির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, নদীপাড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমে আসবে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন দিন ধরে সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অবশেষে নদী থেকে জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার হলেও সেই দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এলাকাবাসী শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীতে শিশুদের অবাধ চলাফেরা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

আরোও পড়ুন – সাপাহারে খাড়ি দখল: অবৈধ স্থাপনায় প্লাবনের ঝুঁকিতে ৮ গ্রাম