সোহরাব হোসেন শিমুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটে চাঁদার টাকা না পেয়ে এক দন্ত চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ওই চিকিৎসকের ওপর লোহার রড দিয়ে হামলা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসককে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে একজন চিকিৎসকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দন্ত চিকিৎসক মনিরুল ইসলামের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। প্রথমে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে চিকিৎসকের হাত ভেঙে দেওয়া এবং তার জমির গাছ কেটে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন মনিরুল ইসলাম ও তার স্বজনরা। স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দন্ত চিকিৎসক হামলা এড়াতে অভিযুক্তকে কয়েক ধাপে টাকা দেওয়া হয়েছিল। গত ৩ মে প্রথমে একটি বিকাশ নম্বরে দুই হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে পূবালী ব্যাংকের অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও দুই হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও টাকা দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিবারটির দাবি, টাকা দেওয়ার পরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ অব্যাহত রাখা হয়। এতে চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ মে চাঁদার টাকা না পেয়ে মনিরুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় তার হাতের দুটি হাড় ভেঙে যায় এবং বুকের কয়েকটি পাঁজরেও গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। দন্ত চিকিৎসক হামলা ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় অপরাধের জন্ম দিতে পারে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, হামলার পর বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারটি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন চিকিৎসকের ওপর এমন বর্বর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দন্ত চিকিৎসক হামলা ঘটনায় ইতোমধ্যে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কয়েকজন প্রতিনিধিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। বিশেষ করে পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাদ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ
চাঁদা না পেয়ে দন্ত চিকিৎসকের হাত-পাঁজর ভাঙার অভিযোগ
সোহরাব হোসেন শিমুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটে চাঁদার টাকা না পেয়ে এক দন্ত চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ওই চিকিৎসকের ওপর লোহার রড দিয়ে হামলা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসককে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে একজন চিকিৎসকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দন্ত চিকিৎসক মনিরুল ইসলামের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। প্রথমে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে চিকিৎসকের হাত ভেঙে দেওয়া এবং তার জমির গাছ কেটে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন মনিরুল ইসলাম ও তার স্বজনরা। স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দন্ত চিকিৎসক হামলা এড়াতে অভিযুক্তকে কয়েক ধাপে টাকা দেওয়া হয়েছিল। গত ৩ মে প্রথমে একটি বিকাশ নম্বরে দুই হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে পূবালী ব্যাংকের অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও দুই হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও টাকা দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিবারটির দাবি, টাকা দেওয়ার পরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ অব্যাহত রাখা হয়। এতে চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ মে চাঁদার টাকা না পেয়ে মনিরুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় তার হাতের দুটি হাড় ভেঙে যায় এবং বুকের কয়েকটি পাঁজরেও গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। দন্ত চিকিৎসক হামলা ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় অপরাধের জন্ম দিতে পারে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, হামলার পর বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারটি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন চিকিৎসকের ওপর এমন বর্বর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দন্ত চিকিৎসক হামলা ঘটনায় ইতোমধ্যে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কয়েকজন প্রতিনিধিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। বিশেষ করে পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাদ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ