গলাচিপায় সংযোগ সড়কহীন ব্রিজে দুর্ভোগ, সুফল বঞ্চিত সূতাবাড়িয়াবাসী

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের সূতাবাড়িয়া এলাকায় নির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আশীর্বাদের বদলে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস আগে ব্রিজটির মূল অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কিংবা প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট করা হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর কাছে এটি এখন একটি সংযোগ সড়কহীন ব্রিজ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও মানুষ এর কোনো বাস্তব সুফল পাচ্ছে না বলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সূতাবাড়িয়া খালের ওপর এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও ব্রিজের দুই প্রান্তে রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে যাওয়ায় এটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী এবং রোগীবাহী যানবাহনকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসায় নিচু জমির মাটি দেবে গিয়ে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এই সংযোগ সড়কহীন ব্রিজ এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং অব্যবস্থাপনার জীবন্ত উদাহরণ।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, ব্রিজ নির্মাণের সময় তারা আশাবাদী ছিলেন যে বহু বছরের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবে এখন মানুষ আগের মতোই কাঁচা রাস্তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যদি পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ না হয়, তাহলে জনগণের অর্থ ব্যয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাদের মতে, শুধু ব্রিজ নির্মাণ করে ছবি তোলা বা উন্নয়নের প্রচারণা চালালেই মানুষের উপকার হয় না; প্রয়োজন কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। বর্তমানে এই সংযোগ সড়কহীন ব্রিজ স্থানীয় জনগণের কাছে হতাশা আর ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ব্রিজের কারণে আশপাশের কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষকরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক সময় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা আরও বাড়ছে।

সূতাবাড়িয়ার তরুণ সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশ মনে করছেন, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হলে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে জনদুর্ভোগ বাড়ে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় না। তাই দ্রুত মাটি ভরাট, টেকসই রাস্তা নির্মাণ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে বহু প্রতীক্ষিত এই ব্রিজটি অবশেষে জনসাধারণের কাজে আসবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

আরোও পড়ুন – অপরিকল্পিত উন্নয়নে হুমকিতে হাজিরহাট, নদীভাঙনে জলে গেল ৩০ লাখ টাকা

গলাচিপায় সংযোগ সড়কহীন ব্রিজে দুর্ভোগ, সুফল বঞ্চিত সূতাবাড়িয়াবাসী

মে ২৭, ২০২৬

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের সূতাবাড়িয়া এলাকায় নির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আশীর্বাদের বদলে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস আগে ব্রিজটির মূল অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কিংবা প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট করা হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর কাছে এটি এখন একটি সংযোগ সড়কহীন ব্রিজ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও মানুষ এর কোনো বাস্তব সুফল পাচ্ছে না বলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সূতাবাড়িয়া খালের ওপর এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও ব্রিজের দুই প্রান্তে রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে যাওয়ায় এটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী এবং রোগীবাহী যানবাহনকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসায় নিচু জমির মাটি দেবে গিয়ে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এই সংযোগ সড়কহীন ব্রিজ এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং অব্যবস্থাপনার জীবন্ত উদাহরণ।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, ব্রিজ নির্মাণের সময় তারা আশাবাদী ছিলেন যে বহু বছরের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবে এখন মানুষ আগের মতোই কাঁচা রাস্তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যদি পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ না হয়, তাহলে জনগণের অর্থ ব্যয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাদের মতে, শুধু ব্রিজ নির্মাণ করে ছবি তোলা বা উন্নয়নের প্রচারণা চালালেই মানুষের উপকার হয় না; প্রয়োজন কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। বর্তমানে এই সংযোগ সড়কহীন ব্রিজ স্থানীয় জনগণের কাছে হতাশা আর ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ব্রিজের কারণে আশপাশের কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষকরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক সময় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা আরও বাড়ছে।

সূতাবাড়িয়ার তরুণ সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশ মনে করছেন, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হলে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে জনদুর্ভোগ বাড়ে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় না। তাই দ্রুত মাটি ভরাট, টেকসই রাস্তা নির্মাণ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে বহু প্রতীক্ষিত এই ব্রিজটি অবশেষে জনসাধারণের কাজে আসবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

আরোও পড়ুন – অপরিকল্পিত উন্নয়নে হুমকিতে হাজিরহাট, নদীভাঙনে জলে গেল ৩০ লাখ টাকা