মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, রংপুরঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ১০৪টি ভিজিএফ স্লিপসহ এক ব্যক্তিকে আটক করার পর গভীর রাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক ভিজিএফ স্লিপ একজন ব্যক্তির কাছে পাওয়া যাওয়ার পরও নিয়মিত মামলা না হওয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্য সহায়তার বিষয়টি হওয়ায় ঘটনাটি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলদলিয়া ইউনিয়নে রোববার (২৬ মে) সকাল থেকে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনিয়নের ৫ হাজার ৪৪০ জন উপকারভোগীর মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ৫০ মেট্রিক টন ৪৪০ কেজি চাল বিতরণের সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চাল বিতরণের সময় মতিয়ার রহমান (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরে তার কাছে থাকা ১০৪টি ভিজিএফ স্লিপ উদ্ধার করা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক মতিয়ার রহমান উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবের কুটি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জব্দ করা স্লিপগুলোর বিপরীতে প্রায় ১ মেট্রিক টন ৪০ কেজি চাল উত্তোলনের সুযোগ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি। তবে একজন সাধারণ ব্যক্তির কাছে এত বিপুল পরিমাণ ভিজিএফ স্লিপ কীভাবে এলো, সেটিই এখন এলাকাবাসীর বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করতে পারে।
ঘটনার পর দিনভর প্রশাসনিক তৎপরতা চললেও রাতে হঠাৎ করে ওই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “দরিদ্র মানুষের চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোনো মামলা হয়নি। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” তারা আরও বলেন, প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা নিত, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম কমে আসত। বিশেষ করে ঈদের সময় অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তা নিয়ে এমন অভিযোগ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
দলদলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, স্থানীয় জনতা মতিয়ার রহমানকে আটক করার পর প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। তিনি বলেন, জব্দ হওয়া স্লিপগুলোর বিপরীতে বরাদ্দ চাল আলাদা করে সংরক্ষণ রাখা হয়েছে এবং বাকি উপকারভোগীদের মাঝে নিয়মিতভাবে চাল বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে ওই ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছিল। পরে অভিযোগকারীরা লিখিত মুচলেকা দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মতিয়ার রহমানকে আটক করা হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে ১০৪টি স্লিপ জব্দ করা হয়। তবে কোনো চাল উদ্ধার না হওয়ায় এবং স্থানীয়দের সুপারিশের ভিত্তিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত ভিজিএফ স্লিপ একজন ব্যক্তির কাছে এত সংখ্যায় থাকার পরও কেন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে ভিজিএফ চাল বিতরণ ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও দুর্বলতা সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সেজন্য প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে পশুর হাটে মেডিক্যাল টিম, সুস্থ কোরবানির পশু নিশ্চিতে তৎপর প্রাণিসম্পদ বিভাগ
উলিপুরে ভিজিএফ স্লিপ কাণ্ড: ১০৪ স্লিপসহ আটক ব্যক্তি গভীর রাতে মুক্ত
মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, রংপুরঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ১০৪টি ভিজিএফ স্লিপসহ এক ব্যক্তিকে আটক করার পর গভীর রাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক ভিজিএফ স্লিপ একজন ব্যক্তির কাছে পাওয়া যাওয়ার পরও নিয়মিত মামলা না হওয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্য সহায়তার বিষয়টি হওয়ায় ঘটনাটি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলদলিয়া ইউনিয়নে রোববার (২৬ মে) সকাল থেকে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনিয়নের ৫ হাজার ৪৪০ জন উপকারভোগীর মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ৫০ মেট্রিক টন ৪৪০ কেজি চাল বিতরণের সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চাল বিতরণের সময় মতিয়ার রহমান (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরে তার কাছে থাকা ১০৪টি ভিজিএফ স্লিপ উদ্ধার করা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক মতিয়ার রহমান উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবের কুটি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জব্দ করা স্লিপগুলোর বিপরীতে প্রায় ১ মেট্রিক টন ৪০ কেজি চাল উত্তোলনের সুযোগ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি। তবে একজন সাধারণ ব্যক্তির কাছে এত বিপুল পরিমাণ ভিজিএফ স্লিপ কীভাবে এলো, সেটিই এখন এলাকাবাসীর বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করতে পারে।
ঘটনার পর দিনভর প্রশাসনিক তৎপরতা চললেও রাতে হঠাৎ করে ওই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “দরিদ্র মানুষের চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোনো মামলা হয়নি। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” তারা আরও বলেন, প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা নিত, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম কমে আসত। বিশেষ করে ঈদের সময় অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তা নিয়ে এমন অভিযোগ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
দলদলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, স্থানীয় জনতা মতিয়ার রহমানকে আটক করার পর প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। তিনি বলেন, জব্দ হওয়া স্লিপগুলোর বিপরীতে বরাদ্দ চাল আলাদা করে সংরক্ষণ রাখা হয়েছে এবং বাকি উপকারভোগীদের মাঝে নিয়মিতভাবে চাল বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে ওই ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছিল। পরে অভিযোগকারীরা লিখিত মুচলেকা দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মতিয়ার রহমানকে আটক করা হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে ১০৪টি স্লিপ জব্দ করা হয়। তবে কোনো চাল উদ্ধার না হওয়ায় এবং স্থানীয়দের সুপারিশের ভিত্তিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত ভিজিএফ স্লিপ একজন ব্যক্তির কাছে এত সংখ্যায় থাকার পরও কেন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে ভিজিএফ চাল বিতরণ ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও দুর্বলতা সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সেজন্য প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে পশুর হাটে মেডিক্যাল টিম, সুস্থ কোরবানির পশু নিশ্চিতে তৎপর প্রাণিসম্পদ বিভাগ