হাবিপ্রবিতে বকরা ঈদের প্রীতিভোজ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবে ছাত্রশিবির

সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ভিন্নমাত্রার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ”। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং ক্যাম্পাসে সম্প্রীতির পরিবেশ আরও জোরদার করা। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক নিজের ফেসবুক পোস্টে “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ” আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে নানা কারণে যারা বাড়ি যেতে পারেননি, বিশেষ করে আবাসিক হল কিংবা মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আনসার সদস্যদেরও এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, প্রীতিভোজকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ২টি গরু ও ২টি খাসি ক্রয় করা হয়েছে। রান্না ও পরিবেশনের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ” আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অমুসলিম ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বসার ও খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।

শুধু খাবার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই উদ্যোগ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় যেসব পরিবার কুরবানি দিতে পারেনি কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কুরবানির মাংস সংগ্রহ করতে পারেনি, তাদের মাঝেও মাংস বিতরণ করা হবে। স্থানীয় অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে অনেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, ঈদের সময় এমন মানবিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসের সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, “ত্যাগ-কুরবানির মহান আদর্শ নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের দ্বারে সমাগত। ত্যাগই ঈদুল আজহার মূল প্রেরণা। এই প্রেরণা আমাদেরকে হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, লালসা ও পাপ-পঙ্কিলতা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়।” তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা, চাকরি কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন না। তাদের ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও ভাগাভাগি করতেই এই “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ” আয়োজন করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চল ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেননি। তাদের জন্য এমন আয়োজন মানসিকভাবে স্বস্তিদায়ক বলেও মনে করছেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, পরিবার থেকে দূরে থাকলেও সম্মিলিত আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ঈদের আবহ তৈরি হলে একাকীত্ব অনেকটাই কমে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবছর নানা কর্মসূচি আয়োজন করলেও এবার “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ” আয়োজনটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই এটিকে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। ক্যাম্পাসে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – লালপুরে ঈদ সহায়তা: ৩ হাজার পরিবার পেল ভিজিএফের চাল

হাবিপ্রবিতে বকরা ঈদের প্রীতিভোজ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবে ছাত্রশিবির

মে ২৭, ২০২৬

সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ভিন্নমাত্রার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ”। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং ক্যাম্পাসে সম্প্রীতির পরিবেশ আরও জোরদার করা। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক নিজের ফেসবুক পোস্টে “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ” আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে নানা কারণে যারা বাড়ি যেতে পারেননি, বিশেষ করে আবাসিক হল কিংবা মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আনসার সদস্যদেরও এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, প্রীতিভোজকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ২টি গরু ও ২টি খাসি ক্রয় করা হয়েছে। রান্না ও পরিবেশনের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ” আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অমুসলিম ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বসার ও খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।

শুধু খাবার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই উদ্যোগ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় যেসব পরিবার কুরবানি দিতে পারেনি কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কুরবানির মাংস সংগ্রহ করতে পারেনি, তাদের মাঝেও মাংস বিতরণ করা হবে। স্থানীয় অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে অনেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, ঈদের সময় এমন মানবিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসের সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, “ত্যাগ-কুরবানির মহান আদর্শ নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের দ্বারে সমাগত। ত্যাগই ঈদুল আজহার মূল প্রেরণা। এই প্রেরণা আমাদেরকে হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, লালসা ও পাপ-পঙ্কিলতা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়।” তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা, চাকরি কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন না। তাদের ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও ভাগাভাগি করতেই এই “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ” আয়োজন করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চল ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেননি। তাদের জন্য এমন আয়োজন মানসিকভাবে স্বস্তিদায়ক বলেও মনে করছেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, পরিবার থেকে দূরে থাকলেও সম্মিলিত আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ঈদের আবহ তৈরি হলে একাকীত্ব অনেকটাই কমে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবছর নানা কর্মসূচি আয়োজন করলেও এবার “বকরা ঈদের প্রীতিভোজ” আয়োজনটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই এটিকে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। ক্যাম্পাসে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – লালপুরে ঈদ সহায়তা: ৩ হাজার পরিবার পেল ভিজিএফের চাল