তেলের দাম বৃদ্ধি জনগণের উপর অত্যাচার : ড. আতিক মুজাহিদ

আসাদুজ্জামান, (কুড়িগ্রাম)

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাংসদ ড. আতিক মুজাহিদ বলেছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের সরকার দাবি করলেও বাস্তবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলা হচ্ছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জ্বালানি খাতের মূল্যবৃদ্ধি দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার কুড়িগ্রাম জেলা শহরের পৌর টাউন হল মার্কেটের দ্যা গ্র্যান্ড অ্যাসেম্বলি হলে এনসিপি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের জীবনমান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “আপনারা একবার তেলের দাম বাড়ালেন, এরপর আবারও দাম বাড়ালেন। জনগণের উপর এত চাপ দিয়ে কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করবেন?” তিনি বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এখন শুধু পরিবহন খাতেই প্রভাব ফেলছে না, বরং কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নতুন করে সংকটে পড়ছে। তিনি দ্রুত তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

চামড়া শিল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য না থাকলেও বাজারে চামড়াজাত পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। একটি জুতার দাম বাড়লেও চামড়ার প্রকৃত উৎপাদকরা কোনো লাভ পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “যেভাবে অতীতে সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমানো হয়েছিল, এখনও সেই সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে দেশের চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ খামারিরা।

সভায় স্বাস্থ্যখাতের চলমান সংকট নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে হাম রোগে প্রায় ৯ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্নভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার সন্তানও হাম আক্রান্ত হয়েছিল এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। তিনি বলেন, “একজন অভিভাবক হিসেবে সেই কষ্ট আমি নিজে অনুভব করেছি।” ড. আতিক মুজাহিদ অভিযোগ করেন, সরকার এখন পর্যন্ত হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, হাম পরিস্থিতিকে জাতীয় সংকট হিসেবে ঘোষণা করে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর দায় চাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাস্তবে প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। এসময় তিনি স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি জনগণের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, তেলের দাম বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যখাতের সংকট এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ত আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে পশুর হাটে মেডিক্যাল টিম, সুস্থ কোরবানির পশু নিশ্চিতে তৎপর প্রাণিসম্পদ বিভাগ

তেলের দাম বৃদ্ধি জনগণের উপর অত্যাচার : ড. আতিক মুজাহিদ

জুন ২, ২০২৬

আসাদুজ্জামান, (কুড়িগ্রাম)

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাংসদ ড. আতিক মুজাহিদ বলেছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের সরকার দাবি করলেও বাস্তবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলা হচ্ছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে জ্বালানি খাতের মূল্যবৃদ্ধি দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার কুড়িগ্রাম জেলা শহরের পৌর টাউন হল মার্কেটের দ্যা গ্র্যান্ড অ্যাসেম্বলি হলে এনসিপি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের জীবনমান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “আপনারা একবার তেলের দাম বাড়ালেন, এরপর আবারও দাম বাড়ালেন। জনগণের উপর এত চাপ দিয়ে কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করবেন?” তিনি বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এখন শুধু পরিবহন খাতেই প্রভাব ফেলছে না, বরং কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নতুন করে সংকটে পড়ছে। তিনি দ্রুত তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

চামড়া শিল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য না থাকলেও বাজারে চামড়াজাত পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। একটি জুতার দাম বাড়লেও চামড়ার প্রকৃত উৎপাদকরা কোনো লাভ পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “যেভাবে অতীতে সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমানো হয়েছিল, এখনও সেই সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে দেশের চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ খামারিরা।

সভায় স্বাস্থ্যখাতের চলমান সংকট নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে হাম রোগে প্রায় ৯ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্নভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার সন্তানও হাম আক্রান্ত হয়েছিল এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। তিনি বলেন, “একজন অভিভাবক হিসেবে সেই কষ্ট আমি নিজে অনুভব করেছি।” ড. আতিক মুজাহিদ অভিযোগ করেন, সরকার এখন পর্যন্ত হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, হাম পরিস্থিতিকে জাতীয় সংকট হিসেবে ঘোষণা করে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর দায় চাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাস্তবে প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। এসময় তিনি স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি জনগণের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, তেলের দাম বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যখাতের সংকট এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ত আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে পশুর হাটে মেডিক্যাল টিম, সুস্থ কোরবানির পশু নিশ্চিতে তৎপর প্রাণিসম্পদ বিভাগ