রাজশাহীতে আরএমপির অভিযানে ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা উদ্ধার

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে পৃথক অভিযানে তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ করে আরএমপির মাদক অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মতিহার থানা, চন্দ্রিমা থানা এবং মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আরএমপির মাদক অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মতিহার থানার চর সাতবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইদুল (২২), চন্দ্রিমা থানার আসাম কলোনী (বৌবাজার) এলাকার মো. রাসেল (২৬) এবং বগুড়া সদর উপজেলার বৃন্দাবনপাড়া এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে মতিহার থানার তালাইমারী এলাকায় বসবাসরত মো. ইমাম হোসেন (৩৩)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও অনুসন্ধান চলছে।

আরএমপি জানায়, গত ১২ জুন গভীর রাতে পৃথক অভিযানে চর সাতবাড়ীয়া এলাকা থেকে ইদুলকে এবং আসাম কলোনী এলাকা থেকে রাসেলকে আটক করা হয়। পরে ১৩ জুন রাতে তালাইমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে মোট ২৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া এসব মাদক স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরএমপির মাদক অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় পূর্ব থেকে দুটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণে তাকে দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছিল। অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধেও তথ্য সংগ্রহ ও অতীত কার্যক্রম যাচাই করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতায় আরএমপির মাদক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা

রাজশাহীতে আরএমপির অভিযানে ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা উদ্ধার

জুন ১৫, ২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে পৃথক অভিযানে তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ করে আরএমপির মাদক অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মতিহার থানা, চন্দ্রিমা থানা এবং মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আরএমপির মাদক অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মতিহার থানার চর সাতবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইদুল (২২), চন্দ্রিমা থানার আসাম কলোনী (বৌবাজার) এলাকার মো. রাসেল (২৬) এবং বগুড়া সদর উপজেলার বৃন্দাবনপাড়া এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে মতিহার থানার তালাইমারী এলাকায় বসবাসরত মো. ইমাম হোসেন (৩৩)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও অনুসন্ধান চলছে।

আরএমপি জানায়, গত ১২ জুন গভীর রাতে পৃথক অভিযানে চর সাতবাড়ীয়া এলাকা থেকে ইদুলকে এবং আসাম কলোনী এলাকা থেকে রাসেলকে আটক করা হয়। পরে ১৩ জুন রাতে তালাইমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে মোট ২৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া এসব মাদক স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরএমপির মাদক অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় পূর্ব থেকে দুটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণে তাকে দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছিল। অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধেও তথ্য সংগ্রহ ও অতীত কার্যক্রম যাচাই করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতায় আরএমপির মাদক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা